পথের সৌন্দর্য জানান দেয় বদলে যাওয়া বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২২, ০৯:২২ এএম

যে কেউ মনে করতেই পারেন এটি ভিনদেশের কোনো রাজপথ। আসলে দেশের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস হাইওয়ে। ছয় লেন বিশিষ্ট এই রাস্তা দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বছর-দুয়েক আগে উদ্বোধনের পর শুধু চলাচলে গাতি আনেনি, নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ করেছে এই পথে যাতায়াতকারীদের। 

দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ের চারপাশের নান্দনিক সৌন্দর্য জানান দেয়, এক অন্য বাংলাদেশের। যা বদলে যাওয়া উন্নত হওয়ার পথে পরিচালিত বাংলাদেশ। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, দক্ষ নেতৃত্ব থাকলে উন্নত রাষ্ট্রের মতো দেশেও আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিকভাবে রাস্তাঘাট, ভবন তৈরি করা যায় সেই বিষয়টিই ফুটে ওঠে।

এক্সপ্রেস হাইওয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত মোট ৫৫ কিলোমিটার। আপাতত পদ্মা সেতু চালু না হওয়ায় ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাটের ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যায় মাত্র ২৭ মিনিটেই। পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত সময় লাগবে ৪৫ মিনিট বা একটু বেশি। দিন রাত সমানতালে এই পথে ছুটে চলে মানুষ। বিশেষ করে রাতের যাত্রাটা ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের জন্য বেশি উপভোগের।

সড়কবাতির আলোয় আলোকিত চারপাশ। অনেকে বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে মাওয়া ঘটে ছুটে চলেন ইলিশের স্বাদ নিতে। মাঝখানে এই এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে স্মৃতি রাখতেও ভুল করেন না ভ্রমণপ্রিয়রা।

যাত্রাপথে একাধিক স্থানে টোল প্লাজা রয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চোখে পড়ে। ফলে নিরাপত্তা নিয়েও নেই কোনো শঙ্কা। 
দিনের বেলায় সবুজ ঘাসের বুকে উঁকি দেয় নানা রঙের ফুল। সড়কের মাঝে বাগানে বিভিন্ন রংয়ের ফুলগুলো বাতাসে দুলতে থাকে। সড়ক দ্বীপজুড়ে করা হয়েছে দেশি-বিদেশি ফুলের বাগান। আর রাতের সড়ক বাতির ঝলমল আলোতে পায় আরেক সৌন্দর্য। প্রতিনিয়ত ব্যস্ততম ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মানুষের যাতায়াত। চলার পথে এক্সপ্রেসওয়ের নয়নাভিরাম এই সৌন্দর্য অনেকেই উপভোগ করছেন। 

Padma

একাধিক যাত্রী জানান, আগে এই পথে যাতায়াত করলে কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা সময় লাগতো। এখন মাত্র ৩০ মিনিটেই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা হাসনাত কবির ঢাকা মেইলকে বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে এর সৌন্দর্য, মনে হয় বিদেশের কোনো রাস্তায় চলছি। সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল মিলছে সেটিও জানান তিনি। 

শরিফ উদ্দিন এই পথে প্রায়ই আসেন ভাড়ায় চালিত গাড়ি নিয়ে। আবার রাতেই ফিরেন তিনি। ঢাকা মেইলকে শরিফ বলেন, ‘বর্তমানে এই মাওয়া ঘাটে প্রতি রাতেই ঘুরতে মানুষ আসে। আমার প্রতি সপ্তাহে দুই তিনটি ট্রিপ থাকে এখানে। রাস্তা ভালো যাতায়াতে কম সময় লাগে তাই অন্য এলাকার ট্রিপ একটু বেশি ভাড়া থাকলেও ছেড়ে দিয়ে এখানের ট্রিপ নিই।’

দৃষ্টিনন্দন চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি ধীরগতির গাড়ি চলার জন্য দুই পাশে রাখা হয়েছে দুটি করে আরও চারটি লেন। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের নকশাও করা হয়েছে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। এক্সপ্রেসওয়েটিতে গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে আটটি পথ। ঢাকার বাবুবাজার, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ, আব্দুল্লাপুর, আব্দুল্লাপুর সংলগ্ন টোলপ্লাজা, শ্রীনগর ফ্লাইওভার ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া মোড়ে রয়েছে এসব প্রবেশ-নির্গমণ পথ। আর এক্সপ্রেসওয়ের ভেতরে কিছুদূর পর পর নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রী ছাউনিসংবলিত বাস-বে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সওজ অধিদফতরকে সহায়তা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৬ সালের মে থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই নির্মাণ শেষ হয়। 

পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু যথাসময়ে চালু করতে কাজ এগোচ্ছে ধাপে ধাপে। জুন মাসে পদ্মা সেতু চালু করাই মূল লক্ষ্য।

padma

বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু জুনে চালু হলে ঢাকা থেকে সরাসরি ভাঙ্গা পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে অত্যন্ত কম সময়ে। ভ্রমণপ্রিয়রা তখন ঘুরতে চলে যাবেন ভাঙ্গা পর্যন্ত।

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে থেকে। আগামী ২০ বছর পর্যন্ত যানবাহন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১ হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছে সরকার। পদ্মা সেতু উন্মুক্ত হলে এই মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকা ও কলকাতাকে যুক্ত করে আন্তর্জাতিক যাতায়াতকে করবে আরও আরামদায়ক।

ডব্লিউএইচ/জেবি/একেবি