সুইস ব্যাংকে টাকা জমানোর জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৩ পিএম
সুইস ব্যাংকে টাকা জমানোর জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি

দেশের টাকা পাচার করে সুইস ব্যাংকে জমানোর এজন্য দেশ স্বাধীন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ২০তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশ স্বাধীন করার জন্য ত্রিশ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন, কেউ দুর্নীতি করবে সেজন্য দেশ স্বাধীন হয়নি।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘এই দেশ স্বাধীন হয়েছে একটি সুখী সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে, কেউ দুর্নীতি করবে, দেশের টাকা পাচার করে সুইস ব্যাংকে জমাবে, সেজন্য দেশ স্বাধীন হয়নি।’

বিচারপতি নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা যারা ষাটোর্ধ্ব তারা জানি, আগে বর্ষাকালে কাদার মধ্যে যখন গরু বেঁধে রাখতো, তখন গরু পায়ে পোকা জন্মাতো। আমাদের মামা দাদিরা তখন কাগজে দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের নাম লিখে গুরুর গলায় ঝুলিয়ে দিতো। তখন ঘৃণা ভরে গরুর পোক গরুর পা থেকে চলে যেত।

মানুষ দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করতেও ভুলে গেছে জানিয়ে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আসুন আমরা দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি। কারণ দুর্নীতিবাজরা জাতিবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নবিরোধী। আসুন আমরা তাদের (দুর্নীতিবাজ) ঘৃণা করতে শিখি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাই বংলাদেশের সবচেয়ে বড় গর্ব, দুর্নীতি এই গর্বের জায়গাকে আঘাত করে। দুর্নীতি মানুষের সেবার মান ভঙ্গুর করে দেয়। আবার অর্থের প্রতি লোভ-লালসা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে।’

হাসান ফয়েজ আরও বলেন, দুর্নীতি হচ্ছে সামগ্রিক উন্নয়নের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ, যা একটি জাতির আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রকে ব্যাহত করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনো মানুষই দুর্নীতিবাজ হয়ে জন্মায় না, তারা জন্মের পর পরবর্তিতে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। ধন সম্পদ অর্জনের লোভ-লালসা মানুষকে অমানুষে পরিণত করে।

হাসান ফয়েজ আরও বলেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে যুব সমাজ, দুর্নীতিবাজদের বিবেক আর দুর্নীতিবিরোধী আইনের যথাযথ ও নিরপেক্ষ ব্যবহার। এছাড়া আইনের প্রয়োগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা।

দুর্নীতি এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, দুর্নীতি এক ভয়াবহ ব্যাধি, এই ব্যাধি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি যতই শক্তিশালী হোক, তার দুর্নীতি সনাক্ত করতে হবে এবং প্রতিরোধ করতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, দুদক কমিশনার জহুরুল হক, ড. মোজাম্মেল হক খান ও সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

বিইউ/এমআর