কোভিডের ক্ষতি কাটাতে ভূমিকা রাখবে পর্যটন মেলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:১৬ পিএম
কোভিডের ক্ষতি কাটাতে ভূমিকা রাখবে পর্যটন মেলা

বিগত বছরের কোভিডের ক্ষতি কাটাতে পর্যটন মেলা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন মেলায় আয়োজকসহ সংশ্লিষ্টরা। কোভিড কারণে দেশে বিদেশে পর্যটন স্থবির হয়ে যাওয়া পর্যটন আবার মেলা সেমিনার সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন লিঙ্কেজ বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে সে প্রত্যাশা করেন বক্তারা। 

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এক্সপো (বিআইটিটিআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মেলার উদ্বোধন করেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলি কদর, টুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপাল রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম, আটাবের সভাপতি এস এন মঞ্জুর মোর্শেদ (মাহবুব), আটাব মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ বক্তব্য রাখেন।

দেশের পর্যটন শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ হচ্ছে। ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পর্যটন নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আমাদের কোভিডের পর ট্যুরিজম রিকভারি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পর্যটনে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাই এগিয়ে যাচ্ছে পর্যটনে। পর্যটনকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা। দেশি-বিদেশি থেকে শুরু করে বেসরকারি খাতের সবাইকে পর্যটনের বিকাশে এগিয়ে আসার কথাও বলেন।

নেপাল রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, গত তিন বছর পর্যটন খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোভিডের কারণে। ট্যুরিজমে বিভিন্ন লিঙ্ক বৃদ্ধিতে এই মেলা কাজ করবে বলেও জানান। যা পর্যটনে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। নেপাল অংশ নিয়েছে এবং পর্যটকরা বিভিন্ন তথ্য সহায়তা পাবে সেটিও জানান।

পর্যটন মেলার টাইটেল স্পন্সর এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আসিফ বলেন, এয়ার অ্যাস্ট্রার যাত্রা শুরু করেছে, ভালো সেবাই হবে লক্ষ্যে। এবছর ৪টি দিয়ে শুরু করে আগামী বছর ১০টি এয়ারক্রাফট সংযুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। আমরা এয়ার অ্যাস্ট্রা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করব দেশে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, ইউএস-বাংলা একটি মানবিক এয়ারলাইনস হিসেবে কাজ করছে। ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এই ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম অসুস্থ কেউ অর্থ সংকটে থাকলে ইউএস বাংলা তাদের পাশে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, দেশের পর্যটন খাতের বিকাশের স্বার্থে আটাবের পর্যটন মেলায় ইউএস-বাংলা অংশ নিয়েছে। কোভিড কারণে বিগত দিনের পর্যটনের ক্ষতি সামনে কাটানোর প্রত্যাশা করেন।

টুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান জানান, টুরিস্টদের জন্য টুরিস্ট পুলিশ সব সময় কাজ করছে। টুরিস্ট স্পটগুলো সব সময় নিরাপদ রাখতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে। আগামীতেও টুরিস্টদের কল্যাণে যা করণীয় আমরা সে কাজ করব।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এক্সপো (বিআইটিটিআই) আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। আজ (১ ডিসেম্বর) থেকে তিনদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলবে এই মেলা। ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে মেলা।

এছাড়া মেলায় প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং, বিদেশি মুদ্রা অর্জনে দেশের পর্যটন সেবার মান উন্নয়ন ও বিক্রির বাজার সৃষ্টিসহ নানান বিষয়ে সেমিনার, গোলটেবিল আলোচনা, কর্মশালা, বিটুবি সেশনসহ আকর্ষণীয় সব আয়োজন থাকবে।

আটাবের সভাপতি এস. এম. মঞ্জুর মোর্শেদ (মাহবুব) তার প্রবন্ধে বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিছু কার্যক্রম যেমন- প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং, বিদেশি মুদ্রা অর্জনে দেশের পর্যটন সেবার মান উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্যাম ট্যুর, পর্যটন শিল্পের প্রচার-প্রসার, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রদর্শন, বিভিন্ন দেশের অ্যাম্বাসি, হাইকমিশনগুলোর সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপন কথা তুলে ধরেন।

ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে দৃঢ় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলাসহ দেশের পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন সেমিনার, গোল টেবিল আলোচনা, কর্মশালা, বিটুবি সেশনের কথা উল্লেখ করেন আটাবের সভাপতি।

আটাবের মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ বলেন, এই মেলা ১৫টির বেশি দেশ থেকে এয়ারলাইন্স, হসপিটাল, ট্যুরিজম বোর্ড, ট্রাভেল এজেন্সী, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ক্রুজ লাইনার, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও অন্যান্য ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাত সংশিৱষ্ট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান প্রদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। এক্সপোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ ও সম্পর্ক তৈরী হবে এবং দেশের জনসাধারণ বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের তথ্য, প্যাকেজ ও এয়ার টিকেট সম্পর্কে জানতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন কর্মকর্তা, এসোসিয়েশন প্রতিনিধি কর্মকর্তা,  বিভিন্ন দেশের ট্যুরিজম বোর্ডের কর্মকর্তা স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা/ ট্যুরিজম ব্যবসায়ী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডব্লিউএইচ/এএস