শীতের পোশাকের বাজার ৮ হাজার কোটি টাকার, ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৫ পিএম
শীতের পোশাকের বাজার ৮ হাজার কোটি টাকার, ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা

শীতে কাঁপছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও শীত অনুভূত হচ্ছে। ঢাকাতেও রাতের বেলায় বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। সে কারণে শীতের পোশাকের বাজার বেশ সরগরম হচ্ছে। বিভিন্ন মার্কেটের পাশাপাশি শহরের অলিগলিতে এখন শীতের কাপড়সহ লেপ কম্বল বিক্রি দেখা যাচ্ছে। রাজধানী থেকে সারাদেশে এই শীতের পোশাকের বাজার ৮ হাজার কোটি টাকার বলে জানা গেছে। তবে সেই বিক্রি এবারও ঠিকমতো হবে কিনা সেটি নিয়ে সংশয় দোকান মালিক সমিতির।

গত কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে শীতের পোশাক বিক্রির দৃশ্য। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, ঢাকায় শীত তেমন নেই তাই বিক্রি কম।

পান্থপথ এলাকায় বিভিন্ন ফুলহাতা গেঞ্জি বিক্রি করেন আলী হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রতিদিন গড় বিক্রি ১৫০০-২০০০ টাকা। এখনো শীত নেই তাই বিক্রিটা সেভাবে হচ্ছে না। তবে মোকামে (পাইকারি) বিক্রি ভালোই দেখেছি। দেশের গ্রামাঞ্চলে বেশ আগে থেকেই শীত পড়েছে। সে হিসেবে জেলা শহরের ক্রেতারা রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটে আরও আগে থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে।

কেরানীগঞ্জের কয়েকটি মার্কেটে খোঁজ নিলে জানা যায়, বিভিন্ন জেলা শহর থেকে বিক্রেতারা আসছেন অনেকেই এর আগে শীতের পোশাক নিয়ে বিক্রি শেষে আবার নিতে আসছেন।

রাজধানী ঢাকাতেও এখন সকালে রাতে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে ফলে অনেকেই শীতের পোশাক কেনায় ভিড় জমাচ্ছেন। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে কম্বল বিক্রি জমজমাট দৃশ্য দেখা গেছে। সেই সাথে গুলিস্তান, ফার্মগেট, নিউমার্কেট এলাকায় মার্কেটের ভেতরে বাইরে ফুটপাতেও দেখা গেছে শীতের নানা ধরনের পোশাক।

market

ফার্মগেটের হাত পায়ের মোজা বিক্রেতা জসিম বলেন, আগের মতো শীতও দেখি না বিক্রিও হয় না। যা হচ্ছে এটি নরমাল বিক্রি। সামনে শীত পড়লে আরও বিক্রি বাড়বে সে প্রত্যাশাও করেন।

এদিকে বায়তুল মোকাররম, পল্টন, মতিঝিল এলাকার ফুটপাত ও বিপণী বিতানে থরে থরে সাজানো রয়েছে শীতের কাপড়। বায়তুল মোকাররমের সামনের ফুটপাতের ব্যবসায়ী জুলহাস হোসেন বলেন, শীতের আনুষঙ্গিকের বিক্রি মোটামুটি ভালোভাবেই শুরু হয়ে গেছে। তবে শীত একটু বাড়তে শুরু করলে চাঙ্গা হবে ব্যবসা। অনেক দোকানে ক্রেতাদের কিনতেও দেখা গেছে।

সারাদেশে শীতের পোশাকের বাজার রয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের দেশে দোকান বা ফুটপাতে সব মিলে ৮ হাজার কোটি টাকার শীতের পোশাকের বাজার রয়েছে। গত দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসা নেই। এবছরও যে হবে সেটি বলা যাচ্ছে না।

কারণ হিসেবে দোকান মালিক সমিতি সভাপতি বলেন, শীত পড়তে শুরু করেছে তবে মানুষের কাছে অর্থ নেই সেই সাথে ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হয় এটি একটি বড় সমস্যা। যে কারণে ব্যবসাটা সেরকম ভাবে হবে না। আমরা মধ্য নভেম্বর থেকে দোকান বন্ধের সময়সীমা রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলাম। এখনো সে বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। সন্ধ্যা ৮টার মধ্যেই দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমরা এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর যে দাবি জানিয়েছি সেটি হলে বিক্রিটা একটু বাড়তে পারে মনে করেন তিনি।

shiter-poshak

হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শীতকালীন ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে না পারলে আমরা কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারব না। তাই দোকান বন্ধের সময়সীমা রাত ৯টা পর্যন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় লাখ লাখ ব্যবসায়ী আবারও পুঁজি হারিয়ে পথে বসবে। আমরা আমাদের দাবি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। আমাদের দাবি নিয়ে আগামি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো। 

রাজধানীর নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি, চন্দ্রিমা মার্কেটের সমিতি নেতৃবৃন্দরাও জানিয়েছেন, শীত শুরু হওয়ায় এসময়ের নানা রকম পোশাক বাজারে আসছে। ক্রেতাদের আগ্রহ আছে তবে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা আসতে আসতেই দোকান বন্ধের সময় হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতি দোকানপাট ছাড়া অন্য কোথাও সেভাবে মানা হচ্ছে না উল্লেখ করে বিভিন্ন মার্কেটের সমিতির নেতারা জানান, শীতের বাজার ধরতে ব্যবসা করার জন্য সময়সূচিতে পরিবর্তন আসা দরকার।

ডব্লিউএইচ/এএস