মশারি বিক্রির হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২০ এএম
মশারি বিক্রির হিড়িক

রাজধানীর কাওরান বাজারে কাঁচা তরকারির দোকানের পাশেই কয়েকটি কাপড়ের দোকান। সাধারণত লুঙ্গি, গামছাসহ বিভিন্ন কাপড় বিক্রি হয় এসব দোকানে। তবে এখন এসব দোকানে গেলে আপনার চোখে পড়বে শুধু কাপড়ই নয়, থরে থরে সাজানো মশারি।

এখানেই গত ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন শফিক। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই মশারির চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আগের চেয়ে বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আগে একটি দোকানে দিনে চার-পাঁচটি মশারি বিক্রি হতো। এখন গড়ে ১৫টি মশারি বিক্রি হয়। কোনো কোনো দিন ২০টিও বিক্রি হচ্ছে। মান ভেদে এসব মশারির দামও ভিন্ন।

গত দুই দিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। এর মধ্য মোহাম্মদপুর, নীলক্ষেত, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সিটি সুপার মার্কেট, কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্স এবং কারওয়ান বাজারের দোকানি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় মশারির বাজার ভালো। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কারণে মশারি বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে।

তবে শুধু মশারি নয়, মশক নিধনের অন্যান্য উপকরণ যেমন- কয়েল, অ্যারোসল ও বৈদ্যুতিক ব্যাটের চাহিদাও অনেক বেড়েছে।

mosari

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে মশার উপদ্রব বাড়ার কারণেই এসব উপকরণের চাহিদা বেড়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও সবার ভরসা এখনও মশারিতে।

কাওরান বাজারের দোকানিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সুতার মানের উপর ভিত্তি করে ১৫ থেকে ২০ ধরনের মশারি রয়েছে। মান ভেদে এসব মশারি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

রাজধানীর গুলিস্তানে বহুতল ফুলবাড়িয়া সিটি সুপার মার্কেটে রয়েছে বেশ কয়েকটি মশারি বিক্রির পাইকারি দোকান। এসব দোকানে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মশারি বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। সারাদেশ থেকে ক্রেতারা সমবেত হন এখানে।

এখনকার সুরাইয়া বেডিং স্টোরের পরিচালক ইস্তেয়াক বলেন, মশারি বিক্রি বেড়েছে। মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়েছে, যে কারণে কয়েল ব্যবহার না করে মশারির উপর ভরসা রাখছেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মশারির বাজার ভাল থাকবে বলে ধারণা তার।

এছাড়াও রাজধানীর ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দেওয়া হাসপাতালগুরোর সামনেও দেখা গেছে মশারি বিক্রি করতে। রাজধানীর মহাখালী কোভিড-১৯ হাসপাতালে বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা। মূল গেটের বাহিরে দেখা যায় হকাররা মশারি বিক্রি করছেন। এসময় আজগর নামে এক রোগীর অভিবাবক জানান- হাসপাতালে ভাতিজি ভর্তি, হাসপাতাল থেকে এখনও মশারি পাইনি, নিজেই সংগ্রহ করতে এসেছি। যদিও এ ক্রেতার দাবি, অন্য সময়ের চেয়ে বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতা।

ডিএইচডি/এএস