পুলিশের চেষ্টায় হারানো ফোন পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ভারতের জিতেন্দ্র

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৪ এএম
পুলিশের চেষ্টায় হারানো ফোন পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ভারতের জিতেন্দ্র

রাজধানীর খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক মিলটন কুমার দেব দাস। তথ্য-প্রযুক্তিতে ভীষণ পারদর্শী এই পুলিশ কর্মকর্তা এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি চুরি, ছিনতাই ও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এরই মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন। প্রতিনিয়ত বিপদগ্রস্ত মানুষ তার সহযোগিতা চাইছেন। পেশাগত কাজের ফাঁকে ফাঁকে হারানো ফোন উদ্ধারের কাজও করে যাচ্ছেন এই তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি তিন মাস আগে হারিয়ে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকের ফোন উদ্ধার করে দিলেন। ভারতীয় ওই নাগরিক বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সরাসরি চলাচল করা ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেসে’র কর্মী।

নিজের ফোন হারিয়ে দিশেহারা ভারতীয় রেলওয়ের টেকনিশিয়ান জিতেন্দ্র কুমার একসময় মুঠোফোন ফিরে পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তার মুখে হাসির ঝিলিক। কারণ, মিলটন কুমার দেব দাস তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এক সপ্তাহ আগে ভিভো কোম্পানির ভি-২১৪ মডেলের ফোনটি উদ্ধার করে দিয়েছেন।

সোমবার (৭ নভেম্বর) ট্রেনে বাংলাদেশ থেকে ফেরার সময় ফোনটি হাতে নিয়ে ভারতে গেছেন জিতেন্দ্র কুমার। উদ্ধার হওয়া ফোনের সঙ্গে নিয়ে গেলেন তৃপ্তিভরা হাসি। আর জানালেন বাংলাদেশ পুলিশের ওপর তার কৃতজ্ঞতার কথা।

এদিকে, হারানো ফোন উদ্ধারের নেপথ্যে কাজ করা পুলিশ কর্মকর্তা মিলটন কুমার দেব দাসও ভিনদেশি একজন নাগরিকের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।

ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের এমন অনুরোধ আসে। সবগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি একজন ভিনদেশি মানুষ। এই দেশে তার ফোন হারিয়েছে শুনে সিরিয়াসলি দেখতে শুরু করলাম। অবশেষে ফোনটি উদ্ধার করে দিলাম। নিজের কাছেও ভালো লাগছে।’

কিভাবে খোয়া যায় জিতেন্দ্রর ফোন?

মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে দুদিন বাংলাদেশে আসে। নিউ জলাপাইগুড়ি ইমিগ্রেশন দিয়ে সরাসরি ঢাকায় আসে ট্রেনটি। ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীরাও ওঠার সুযোগ পান। আর জিতেন্দ্র কুমার এই ট্রেনে চাকরির সুবাদে বাংলাদেশ আসা-যাওয়া করেন।

DMগত ৪ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছার পর অন্য সময়ের মতো ট্রেনের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কমলাপুরে আসেন জিতেন্দ্র। পরে কাজ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি বুঝতে পারেন ফোনটি হারিয়েছেন। তার ধারণা, হয়তো পথে কোথাও পড়ে গেছে নিজের প্রিয় মোবাইল ফোনটি।

যেভাবে পেলেন মিল্টন কুমারের খোঁজ

ফোন হারিয়ে মন খারাপ করে জিতেন্দ্র কুমার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশ পুলিশের শরণাপন্ন হন। সেখানকার একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভরসা দেন- যদি বাংলাদেশে ফোন চালু হয় তাহলে উদ্ধার করা যাবে। অবশ্য ওই পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন ফোন উদ্ধারকারী হিসেবে আলোচিত মিলটনের ব্যাচমেট।

যেভাবে উদ্ধার হলো জিতেন্দ্রর ফোন

ফোন হারিয়ে পুলিশের পরামর্শে রেলওয়ে থানায় জিডি করেন জিতেন্দ্র। পরে ব্যাচমেটের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ফোনের কাগজপত্র, ডিজির কপি নিয়ে উদ্ধারে কাজ করতে থাকেন মিলটন। তথ্য-প্রযুক্তি ঘেঁটে তিনি জানতে পারেন জিতেন্দ্রর ঢাকা থেকে খোঁয়া যাওয়া ফোনটি ইতোমধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে গেছে। পরে সেখান থেকে যায় অনলাইন মোবাইল মার্কেটে। সবশেষ ওই মার্কেট থেকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মী ১৭ হাজার টাকা দিয়ে ফোনটি কিনে ব্যবহার করছেন। একপর্যায়ে এক সপ্তাহ আগে ফোনটি কৌশলে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

DMপুলিশ কর্মকর্তা মিলটন কুমার দেব দাস সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে এসব জিনিস কেনাকাটার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি যাচাই-বাছাই ছাড়া এমনভাবে ফোন কেউ সংগ্রহ করে তাহলে পরবর্তীতে দেখা যাবে সেটি চোরাই ফোন। তখন যে কিনবে তারই বিপদ হবে। কারণ অনলাইন মার্কেটগুলোতে সস্তায় পেয়ে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু পরে বিপদে পড়তে হয়।

বিইউ/আইএইচ