তীব্র গরমে ঢাকায় বছরে ৬ হাজার ৮০৯ কোটি টাকার ক্ষতি

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১৭ পিএম
তীব্র গরমে ঢাকায় বছরে ৬ হাজার ৮০৯ কোটি টাকার ক্ষতি
ফাইল ছবি

কার্বন নিঃসরণ ছাড়াও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের ফলে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। সর্বত্রই যেন গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রতিটি প্রাণ। ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের এক গবেষণায় আগামী ১০ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সীমা গড়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রমের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে তীব্র তাপদাহে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রুখতে নানামুখী পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব।

বৈশ্বিক তাপদাহের এমন ঊর্ধ্বমুখী গতির মাঝেই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাড্রিয়েন আরশট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রিজিলিয়ান্স সেন্টারের এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিষ্ঠানটির করা গবেষণার তথ্য বলছে- অত্যধিক তাপমাত্রার ফলে প্রচণ্ড গরমে প্রতি বছর রাজধানী ঢাকা ৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা) মূল্যের জিডিপি হারাচ্ছে। যা ঢাকার বার্ষিক জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ।

Weatherবিশ্বের ১২টি দেশের শহর নিয়ে করা ওই গবেষণাটি শনিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে। আদ্রিয়েন আরস্ট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রেসিলিয়েন্স সেন্টার, রকফেলার ফাউন্ডেশন এবং মানবহিতৈষী অ্যাড্রিয়েন আরস্তের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় তাপমাত্রা অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় উৎপাদনশীলতাকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এ গবেষণায় ঢাকার সঙ্গে তুলনা করা অন্য শহরগুলো হলো- নয়াদিল্লি, এথেন্স, বুয়েনস আইরেস, ফ্রিটাউন, লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, মন্টেরি, সান্তিয়াগো ও সিডনি।

‘হট সিটিজ, চিলড ইকোনমিজ: ইমপ্যাক্টস অব এক্সট্রিম হিট অন গ্লোবাল সিটিজ’ শীর্ষক ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় ইতোমধ্যে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে। এখনই বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে ব্যবস্থা না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় বছরের উষ্ণতম ১০ দিনের আপাত তাপমাত্রা (তাপ ও আর্দ্রতা উভয়ই বিবেচনা করে) মানব দেহের চেয়েও বেশি। এরমধ্যে ঢাকায় ২০২০ সালের ৩৬ দশমিক ৫ দিন এমন ছিল যেখানে ২৪ ঘণ্টার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। যা ২০৫০ সাল নাগাদ বেড়ে ৬৯ দশমিক ৮ দিন হতে পারে। সেই সঙ্গে বর্তমানে সড়কের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলের তুলনায় ঢাকার অভ্যন্তরে বড় ও বহুল কর্মময় এলাকাগুলো প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উষ্ণ জানিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তৈরি পোশাক, পরিবহন এবং খুচরা বাণিজ্যের মতো খাতে, যেখানে মজুরি গড়ের চেয়ে কম, সেখানে ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে আয়ের প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া তৈরি পোশাক বা ইট তৈরির মতো খাতে উৎপাদনে বিশেষভাবে বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এসব জায়গায় যন্ত্রপাতি বা ওভেনের সান্নিধ্যে শ্রমিকদের অধিক তাপমাত্রার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই তাপদাহ দরিদ্রদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Weatherগবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতি কামরাঙ্গীরচরে। এ কারণে এই এলাকায় তাপমাত্রা সাধারণত ঢাকার আশেপাশের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। এছাড়া ঢাকায় শ্রমনিবিড় অর্থনৈতিক তৎপরতা বেশি। তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা এখানে কম। ফলে ঢাকা উচ্চতাপের প্রভাবের জন্য অস্বাভাবিক ঝুঁকিপূর্ণ। আর নিম্নআয়ের কর্মীরা বিশেষভাবে উচ্চতাপের সংস্পর্শে আসায় তারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত হয়। সেই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত উষ্ণায়নের কারণে তৈরি পোশাক, পরিবহন ও খুচরা ব্যবসা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, রাজধানী ঢাকার প্রায় ৪ লাখ হকারের মধ্যে একটি বড় অংশই গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন। শ্রমিক হিসেবে তাদের দক্ষতা কম। আর বেশিরভাগ হকারের কোনো স্থায়ী দোকান নেই। তারা মূলত ফুটপাতে উন্মুক্ত স্থানে নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করেন। জরিপের তথ্যমতে, তাপপ্রবাহ চলার সময় ৯ শতাংশ হকার ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ আয় হারান। এছাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ হকার তাপদাহের ফলে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ আয় হারান।

/আইএইচ