উন্মুক্ত হচ্ছে সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৩ এএম
উন্মুক্ত হচ্ছে সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টার

দশ বছরের পরিকল্পনা ও নির্মাণকাজের পর অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের দরজা।

শনিবার (১ অক্টোবর) খ্রীস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) গাজীপুরের শ্রীপুরে তার ক্লাইমেট সেন্টার উদ্বোধন করা হবে।

এই সেন্টারটিকে একটি ক্লাইমেট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সেবা করা যায়।
 
সেন্টারের ১২ হেক্টর জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে একটি জলবায়ু পার্ক, যেখানে বাংলাদেশের প্রধান বাস্তুতন্ত্রগুলোর প্রতিরূপ এবং প্রায় ১০০টি জলবায়ু অভিযোজন ও নবায়নযোগ্য শক্তির সমাধান রয়েছে। এছাড়া এই সেন্টারে রয়েছে একটি শিক্ষাকেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার), যেখানে প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং সম্মেলনের সুবিধা রয়েছে। 

সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার জানান, আজকের এই দিনটি খ্রীস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)- এর স্বপ্নপূরণের একটি মুহূর্ত। এখন আমাদের আশা এই যে, সেন্টারটি আমাদের, আমরা যে মানুষগুলোর সঙ্গে কাজ করি তাদের এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করা শুরু করবে৷ সেন্টারটি আমাদের দেশকে জলবায়ু সমৃদ্ধি, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং শূন্য কার্বন নির্গমন পথের দিকে ধাবিত করবে।

তিনি আরও বলেন, সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টার শুধুমাত্র সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা বা সম্মেলনের জন্যই তার দরজা উন্মুক্ত রাখেনি। এটি সেই সকল মানুষ- যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের মাধ্যমে কীভাবে প্রভাবিত হয়, তা জানতে চায় এবং অভিযোজনের উপায়গুলো ও পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চায়-তাদের সকলের জন্যই উন্মুক্ত। আমরা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ ও তৃণমূল পর্যায়ের সকল মানুষকে আমাদের এই সেন্টারের সৌন্দর্য উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানাই।

সিসিডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের প্রধান ফয়েজুল্লাহ তালুকদার বলেন, আমরা এই সেন্টারটিকে একটি ‘জলবায়ু উৎকর্ষের কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার কল্পনা করেছি, যা একটি জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র হিসেবে এবং সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই সেন্টারের সুবিধাগুলো বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ, যার মধ্যে দেশ ও দেশের বাইরের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, এনজিওকর্মী,সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী- সকলেই ব্যবহার করতে পারবে। এর মাধ্যমে আমরা একসাথে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির বিপরীতে নানা ধরনের সমাধান খুঁজে বের করতে এবং একইসঙ্গে এর ফলে ঝুঁকিতে থাকা জনগণের সেবা করতে পারবো।

খ্রীস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি), একটি জাতীয় এনজিও, যা ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি ন্যায়পরায়ণ এবং যত্নশীল সমাজের কল্পনা করে যেখানে লোকেরা শান্তিতে, মর্যাদা এবং ঈশ্বরের সমস্ত সৃষ্টির সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করবে। এপর্যন্ত সিসিডিবি বাংলাদেশের ২৮টি জেলার প্রায় কয়েক হাজার দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা করছে। জলবায়ু বিপর্যয়ের বিধ্বংসী পরিণতি অনুভব করে সিসিডিবি ২০০৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার কাজ শুরু করে। 

/এএস