সবার জন্য উন্মুক্ত

বহুস্মৃতির বাতিঘর ‘পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৯ পিএম
বহুস্মৃতির বাতিঘর ‘পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’
ছবি: ঢাকা মেইল

মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জমা আছে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। এ যেন এক যুদ্ধ স্মৃতির বাতিঘর। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র থ্রি নট থ্রি রাইফেল, মর্টার শেল, হাতব্যাগ, টুপি, চশমা, মানিব্যাগ, পাক বাহিনীর আক্রমণের খবর বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে পাঠানোর ওয়্যারলেস সেট। এমনকি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্যবহৃত পিস্তলটিও আছে এখানে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পুলিশের প্রথম প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্মারক নিয়েই বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অবস্থিত এই চেতনার বাতিঘর। এই জাদুঘরটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনেক শিক্ষণীয়ও বটে। তবে ‘পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ মানে পুলিশের জন্যই নয়। অনেকেই জানেনই না এটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন অনেকেই জানতে পারছেন এবং প্রতিনিয়তই ঘুরে দেখতে আসছেন এই স্মৃতিঘেরা জাদুঘরটি।

jadugar

জাদুঘর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এবং জাদুঘরের তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছিল ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন। প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধও শুরু হয় রাজারবাগ থেকে। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ওই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে স্থাপিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’।

২০১৩ সালের ২৪ মার্চ জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের টেলিকম ভবনে। পরে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক পাশেই নব-নির্মিত জাদুঘর ভবনের উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী একযোগে আক্রমণ চালিয়েছিল ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে রাজারবাগেই বাঙালি পুলিশ সদস্যদের দ্বারা পাকিস্তানি সেনারা প্রথম প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যরা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে ঢাকা আক্রান্ত হওয়ার বার্তা সারাদেশের থানাগুলোতে প্রেরণ করেন। জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। পুলিশের এই প্রতিরোধ যুদ্ধের কথা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা অনুপ্রাণিত হয়।

jadugar

রাজারবাগ আক্রান্ত হওয়ার পরপরই ওয়ারলেস বা বেতারযন্ত্রের অপারেটর মো. শাহজাহান মিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ উদ্যোগে ইংরেজিতে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের বার্তাটি দেশের সব থানায় পাঠিয়ে দেন। ২৫ মার্চ তিনি তার বার্তায় বলেন, ‘বেইজ ফর অল স্টেশন্‌স অব ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, কিপ লিসেন অ্যান্ড ওয়াচ, উই আর অলরেডি এটাকড বাই পাক আর্মি। ট্রাই টু সেভ ইয়োরসেল্‌ভস, ওভার।’ রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বেতারযন্ত্রটির মাধ্যমে সারাদেশে এই বার্তা প্রচার করেন। এই জাদুঘরে সেই বেতারযন্ত্রটি স্থান পেয়েছে। পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণে প্রতিরোধ গড়ে প্রাণ হারান শতাধিক পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা।

জাদুঘরে স্থান পেয়েছে একটি পাগলা ঘণ্টা, যেটি বাজিয়ে সেই রাতে পুলিশ সদস্যদের একত্রিত করছিলেন কনস্টেবল আব্দুল আলি। এছাড়া আরও রয়েছে পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত রাইফেল, বন্দুক, মর্টারশেল, হাতব্যাগ, টুপি, চশমা ও ইউনিফর্ম। দেয়ালজুড়ে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের যুদ্ধের সময়ের ডায়েরি, হাতে লেখা বিভিন্ন বার্তা, বিভিন্ন ধরনের আলোকচিত্র এবং পোস্টার। দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এ জাদুঘরে আছে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদানের নানান স্মারক।

নানা ধরনের সংগ্রহশালা থাকলেও দর্শনার্থীর সংখ্যা এখনো খুব একটা বাড়েনি। অনেকটা নিরবেই যেন আছেন জাদুঘরটি। প্রতি মাসে গড়ে ৮ শতাধিক দর্শক আসে এখানে। এর কারণ বেশির ভাগ মানুষ এটিকে পুলিশের মনে করেন। জাদুঘরে দায়িত্ব একাধিক কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের জাদুঘর ফলে অনেকের ধারণা করেন এটি পুলিশ ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তবে এখন আমাদের দর্শনার্থী বাড়ছে। প্রচার হচ্ছে বাহিরে। যারা একবার ঘুরে গেছেন তারা অন্যদের উৎসাহিত করেন এভাবেই দর্শনার্থী বাড়ছে। এটি যে আসলে সবার জন্য উন্মুক্ত সেই বার্তা সবার কাছে যাচ্ছে। বিভিন্ন দিবসে প্রচুর সমাগম হয় সেটিও জানান।

jadugar

জানা গেছে, ২০০৯ সালে তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ (বর্তমানে এমপি) ও ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার একেএম শহীদুল হকের (সাবেক আইজিপি) সঙ্গে পরামর্শ করে পুলিশের তৎকালীন ডিসি মো. হাবিবুর রহমান (বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি) জাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। এক জন পরিচালকসহ বর্তমানে ১৮ জন পুলিশ সদস্য এই জাদুঘরটি তদারকির দায়িত্বে আছেন।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ও পুলিশ মুক্তযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালক মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, এটি একটি গর্ব করার মতো বিষয়। এখানে পুলিশদের যুদ্ধের নানা স্মৃতি রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ধারণা দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ইতিহাস তুলে ধরা এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন তুলে ধরা। একারণেই এখানে একটি লাইব্রেরি করা হয়েছে। দুই হাজারের বেশি এখানে বই রয়েছে।

সরেজমিনে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়, জাদুঘরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধু গ্যালারি। গ্যালারির দুই পাশের দেয়ালে আছে বঙ্গবন্ধুর নানা সময়ের দুর্লভ সব আলোকচিত্র। পাশেই মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা প্রায় দুই হাজার বইয়ের সমন্বয়ে এক মনোরম লাইব্রেরি। যে কেউ মনোরম পরিবেশে লাইব্রেরিতে বসে বই পড়তে পারবেন। এছাড়া এখানে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান বিষয়ে লেখা বিভিন্ন বই কেনারও ব্যবস্থা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু গ্যালারির ঠিক মাঝ বরাবর গোলাকার দুটি সিঁড়ি নেমে গেছে জাদুঘরের মূল কক্ষে। জাদুঘরে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসের বিশাল সংগ্রহশালা। যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন পুলিশ বাহিনীর নানান স্মৃতিচিহ্ন, অস্ত্র, পোশাক, দলিল-দস্তাবেজ। 

jadugar

দর্শনার্থীরা গেলেই জাদুঘরে দেখতে পাবেন- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত থ্রি নট থ্রি রাইফেল, শহীদ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত পোশাক, চশমা, টুপি, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণার টেলিগ্রাম লেটার, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আইজিপি আবদুল খালেকের ব্যবহৃত চেয়ার, যুদ্ধের সময় উদ্ধার করা গুলি ও মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হ্যান্ডমাইক, যুদ্ধের সময় দূর থেকে শত্রুর অবস্থান দেখার জন্য পুলিশ বাহিনীর সার্চ লাইট, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের টেলিকম ভবনের দেয়াল ঘড়ি, যুদ্ধকালীন পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন চিঠিপত্র, ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে পুলিশ সদস্যদের রাজারবাগ আক্রমণের খবর দেওয়া হেলিকপ্টার ব্যাজ, বেতার যন্ত্র, ওয়্যারলেস সেট, পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেঞ্চ ও প্রথম প্রতিরোধের রাতে পুলিশ সদস্যদের একত্রিত করা পাগলা ঘণ্টাসহ শত শত ঐতিহাসিক নিদর্শন। এছাড়াও আরও আছে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ব্যবহার করা ৭.৬২ এমএম রাইফেল, রিভলবার, ২ ইঞ্চি মর্টার এবং মর্টারশেল, ৩০৩ এলএমজি, মেশিনগান, ৭.৬২ এমএম, এলএমজি .৩২ বোর রিভলবার, .৩৮ বোর রিভলবার, ১২ বোর শর্টগান ও ৯ এমএম এমএমজিসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সমাহার।

পাকিস্তান সরকারে অনুগত্য অস্বীকার করে কর্মস্থল ত্যাগ করে যুদ্ধে অংশ নেয় প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ সদস্য। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের একজন ডিআইজি, চারজন পুলিশ সুপার, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, একজন ডিএসপি, একজন এসডিপিও, ১২ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৮১ জন উপ-পুলিশ পরিদর্শকসহ ৭৫১ জন পুলিশ শহীদ হন।

এদের মধ্যে রয়েছেন- তৎকালীন রাজশাহীর ডিআইজি মামুন মাহমুদ, রাজশাহীর পুলিশ সুপার শাহ আবদুল মজিদ, কুমিল্লার পুলিশ সুপার কবির উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এম শামসুল হক, পিরোজপুর মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) এবং কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও ডক্টর জাফর ইকবালের বাবা ফয়েজুর রহমান আহমেদসহ অনেকে। পাক বাহিনী বিভিন্ন পুলিশের ইউনিটে রিজার্ভ অফিসে আগুন দিলে তথ্য পুড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সংখ্যা অজানা রয়ে যায়। পুলিশে পাঁচজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বীরবিক্রম ও দুইজন বীর প্রতীক।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ও পুলিশ মুক্তযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালক মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের এখানে প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ দর্শনার্থী আসছে। আগের চেয়ে দর্শনার্থী বাড়ছে। মানুষের মধ্যে প্রচার হচ্ছে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। ১০ টাকার টিকিটে সবাই প্রবেশ করে দেখতে পারছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে আসি, ঘুরে দেখাই। বিভিন্ন দিবসে চিত্রাঙ্কণ কুইজ প্রতিযোগিতা করে থাকি যেন এই প্রজন্ম এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে।

jadugar

পুলিশ মুক্তযুদ্ধ জাদুঘরের কর্মকর্তা অতিরিক্ত এসপি মো. এনায়েত করিম ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের এই জাদুঘরে অনেক স্মৃতিচিহ্ন যেমন আছে তেমনি মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ যেভাবে প্রতিরোধ করেছে তার একটি দৃশ্যও ফুটে উঠে। আমাদের ইউনিক সংগ্রহ ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্যবহৃত পিস্তল। আমাদের এখানে অডিটরিয়াম আছে যেখানে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি দেখানো হয় নিজস্ব পাবলিকেশনও আছে। এই প্রজন্ম জানতে পারছে, শিখতে পারছে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রায় হাজারখানেক বই রয়েছে লাইব্রেরিতে। অডিও ভিজ্যুয়াল কক্ষে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনা যায়। এছাড়া জাদুঘরে রয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত থ্রি নট থ্রি রাইফেল, শহীদ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত পোশাক, চশমা, টুপি, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণার টেলিগ্রাম লেটারসহ শত শত ঐতিহাসিক নিদর্শন।

জাদুঘরে প্রবেশ ফি মাত্র ১০ টাকা। গ্রীষ্মকালে (মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং শীতকালে (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকে। সাপ্তাহিক বন্ধ বুধবার। তবে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। দর্শকরাই যারা আসেছেন তাদের প্রত্যেকেই আগ্রহ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের গৌরবময় ভূমিকার স্মারকগুলো দেখেন। 

ডব্লিউএইচ/এএস