সমাবেশের বাঁশ-লাঠিতে উনুন জ্বলে পারুল-শুকুরদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১১ পিএম
সমাবেশের বাঁশ-লাঠিতে উনুন জ্বলে পারুল-শুকুরদের

রাজধানীর হাজারীবাগে সমাবেশ করেছে বিএনপি। দলীয় নেতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন হাজারও কর্মী। আবার নেতাদের ডাক না পাওয়া কিছু মানুষও এসেছেন। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সমাবেশ চলাকালে একদল নিম্নআয়ের মানুষকে সেখানে দেখা যায়, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

সমাবেশ শেষে যখন নেতাকর্মীরা চলে যাচ্ছেন, তখনই শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ। তারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন ব্যানার-ফেস্টুনগুলো।

আলাপকালে তারা জানান, রাজনৈতিক সমাবেশ হলেই সেখানে শোভা পায় ছোট-বড় ফেস্টুন। সমাবেশ শেষে সেগুলো অকেজো রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে। নেতাদের ফেলে যাওয়া সেই ফেস্টুনের ফ্রেমের কাঠ উনুনের জ্বালানি হয় এই নিম্নআয়ের মানুষদের। এজন্য সমাবেশ শেষ হওয়া পর্যন্ত সমাবেশস্থলে থাকেন তারা।

হাজারীবাগ বউবাজার এলাকার বাসিন্দা পারুল বেগম ঢাকা মেইলকে বলেন, 'কাঠগুলা পাই, লাভ হয়। এক কেজি লাড়কি ১০ টাকা৷ আট-দশ কেজি পাইছি। বাঁশেরও পাইছি ২০ কেজির মতো।'

একই স্থানে বাঁশ-কাঠ জড়ো করতে ব্যস্ত শুকুর। ১৩ বছরের শুকুর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। থাকে রায়েরবাজার এলাকায়। তার বাসায় রান্না হয় মাটির চুলায়। নিম্নআয়ের পরিবারে লাড়কি কিনে রান্না করাটা কঠিন। তাই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এসে সেখান থেকে কাঠ-বাঁশ সংগ্রহ করে সে।

আজ তার নজর ছিল সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের হাতের লাঠির দিকে। ঢাকা মেইলকে শুকুর বলে, 'সবার হাতে অনেক লাঠি ছিল। সবাই তো যাওয়ার সময় ফালাইয়াই দিয়া যাইবো। আমি অনেকজনের কাছে আগে চাইয়া রাখছি। তারা দিছে। যারা ফালাইয়া গেছে, তাগো গুলাও লইছি।'

hh2

সব মিলে গোটা বিশেক বাঁশ-কাঠের বন্দোবস্ত হয়েছে তার। তাই বেজায় খুশি এই তরুণ।

সোমবার বিকেলে হাজারীবাগের সমাবেশে বিএনপির কর্মীদের হাতে হাতে ছিল বাঁশ কিংবা কাঠের লাঠি। অনেকের হাতে থাকা লাঠিতে পতাকা বাঁধা দেখা গেছে। তবে অনেককে সরাসরি লাঠি বহন করতে দেখা গেছে।

সমাবেশে কেন কর্মীরা লাঠি নিয়ে এসেছেন তা ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজকে আমি হঠাৎ করে দেখলাম আমার ছেলেদের হাতে হাতে লাঠি, এতে একটু শঙ্কিত হলাম। কিছুক্ষণ আগে শাজাহান ওমর বলে গেছেন, আমাদের দেশে একটি গোষ্ঠী আছে কালা, অন্ধ, বোবা; কিছু দেখে না, কথা বলে। তারা বলবে বিএনপি সহিংসু হয়ে গেছে, বিএনপি লাঠি নিয়ে মিছিল করছে। বিএনপি যে কোন দুঃখে লাঠি নিয়ে এসেছে সেটা বলবে না। বিএনপির কর্মীদের মারতে মারতে এমন এক জায়গা নিয়ে এসেছে, আজকে তাদের আত্মরক্ষার্থে লাঠি হাতে নিয়ে আসতে হয়। সুতরাং আজকে আত্মরক্ষা করছে আর একদিন আক্রমণ করলে প্রতিহত করবে। বিএনপির কর্মীরা নিজ ইচ্ছায় হাতে লাঠি তুলেনি, লাঠি আপনারা (আওয়ামী লীগ) তুলতে বাধ্য করেছেন।’

কারই/জেবি