সাফজয়ীদের লাগেজ থেকে অর্থ চুরি করল কারা?

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৬ পিএম
সাফজয়ীদের লাগেজ থেকে অর্থ চুরি করল কারা?

সদ্য নেপাল থেকে নারীদের সাফের বিজয় মুকুট ছিনিয়ে আনার পর গোটা দেশ যখন উল্লসিত, তখন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা লজ্জায় ফেলেছে। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে অর্থ খোয়া গেছে বলে দুই নারী ফুটবলার অভিযোগ করলেও তা অস্বীকার করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে দিনভর নানা গুঞ্জন এবং সমালোচনার পর বিকেলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাননি তারা।

বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, শাহজালালে ফুটবলারদের লাগেজ থেকে কোনো জিনিস হারায়নি। তারা লাগেজ অক্ষতই পেয়েছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘেঁটে তারা চুরির কোনো তথ্য পায়নি।‌ তাহলে প্রশ্ন উঠেছে মেয়েদের লাগেজ থেকে অর্থ চুরি হলো কোথায়। আর কারাইবা তাদের অর্থ চুরি করেছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে চুরি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিদেশ ফেরতদের লাগেজ কেটে মালামাল হারানোর বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে অনেক সময় খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর এসব অভিযোগ উঠে ওই বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। যদিও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বরাবরই নাকচ করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শাহজালাল বিমানবন্দরে নারী ফুটবলারদের লাগেজ থেকে অর্থ হারানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এবারও বিষয়টিকে সত্য নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। লাগেজ থেকে টাকা ও ডলার চুরির বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে মেইলে অভিযোগ করা হয়েছে বলে বাফুফের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সেটিও অস্বীকার করছে বিমান ও বেবিচক।

DHAKA-3বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তাদেরকে অভিযোগ করেছি এবং মেইল মারফতে জানানো হয়েছে।‌ আমাদের দুই খেলোয়াড়ের লাগেজ থেকে ১৩০০ ডলার এবং ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণার ৯০০ ডলার এবং ৫০ হাজার টাকা এবং শামসুন্নাহারের ৪০০ ডলার চুরি হয়েছে তাদের লাগেজ কাটা অথবা ভাঙ্গা কোনো কিছুই ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে তারা কৌশলে সেগুলো বের করে নিয়েছে। আর এগুলো কে নিয়েছে আমরা জানি না। বিষয়টি তদন্তের জন্য আমরা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিমান বরাবরই লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়াও বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন লিখিতভাবে অভিযোগ করার বিষয়ে প্রমাণও দিয়েছে তারা। কিন্তু বিমান ও বেবিচক বিষয়টি অস্বীকার করছে। ‌অভিযোগ হাতে পাওয়ার পরও তাদের এই অস্বীকার কেন এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বাঘিনীদের লাগেজ থেকে টাকা ও ডলার ভূতে নিলো বা গায়েব হয়ে গেল? বিষয়টি চাউর হওয়ার পর থেকে কেন এত লুকোচুরি করা হচ্ছে।

গতকালকের ঘটনায় বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা এবং বিমানের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর বলছেন। যদিও এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে নারাজ।

বেবিচকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনে মাঠে কাজ করেছি। ‌ আসলে এমন গুজব কে ছড়াল তা আমরা জানি না। যদি সত্যিই লাগেজ থেকে ডলার চুরি হতো তাহলে তার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে অবশ্যই উঠে আসতো।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি শোনার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেছে লাগেজ থেকে ডলার চুরির এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

DHAKA-2নাম প্রকাশ করা না শর্তে বেবিচকের এক কর্মকর্তা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা পুরো বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তন্নতন্ন করে খুঁজেছি। কিন্তু লাগেজ থেকে ডলার চুরি করা হচ্ছে এমন কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পার্টে আমরা নিশ্চিত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বিষয়টি নিয়ে বিমান ও বেবিচক নেপাল এয়ারপোর্টকে অবগত ও বিষয়টি তদন্তে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন আমরা এই সামান্য বিষয় নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ করতে চাই না। এই ডলার নানাভাবে চুরি হয়ে যেতে পারে। হয়তো তারা বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে যখন বিআরটিসি ছাদখোলা বাসে উঠেছে সেখানেও তো চুরি হতে পারে। ‌ অথবা নেপাল বিমানবন্দরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া বুধবার তারা আসার পর কোনো অভিযোগ করেনি। আজ আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারছি।’

আরও পড়ুন: অর্থচুরি ও লাগেজ ভাঙার সত্যতা পায়নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক পলাশ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বাফুফে আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। আমরা বিষয়টি জানার পর নিজ উদ্যোগে বিমানবন্দরের বিভিন্ন সিসি ফুটেজ ক্যামেরা যাচাই করেছি কিন্তু কোথাও লাগেজ থেকে ডলার নেওয়া হচ্ছে এমন প্রমাণ পাইনি।’

এপিবিএনের একটি সূত্র জানিয়েছে, চুরির অভিযোগ ওঠার পর তাদের পক্ষ থেকে লাগেজ থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি তাদের কাছে অভিযোগ করা হয়নি। তারা নিশ্চিত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

DHAKA-5এদিকে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে গণমাধ্যমে লিখিত বার্তাও পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এমন কোনো ঘটনা প্রতীয়মান হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা কালে দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিমান ল্যান্ডিং করে, ১ টা ৫৮ মিনিটে লাগেজ এরিয়ায় ট্রলির আগমন, ১ টা ৫৯ লাগেজ এরিয়ায় প্রথম লাগেজ ড্রপ, ২টায় কনভেয়ার বেল্টে প্রথম লাগেজ ড্রপ এবং ২ টা ৮ মিনিটে শেষ লাগেজ ড্রপের দৃশ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: উদ্ধার না হলে সাফজয়ী কৃষ্ণাদের হারানো অর্থ দেবে বাফুফে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকারও দাবি করেছেন, বাফুফে থেকে তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তারা সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি শুনে সিসি ফুটেজ দেখে যাচাই করেছেন। কিন্তু চুরির কোন প্রমাণ তারা পাননি। এছাড়াও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। ‌‌

এমআইকে/এমআর