সদ্য প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের। সেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠে কৈশোরকালে। এই বন্ধুত্বের টানে নড়াইল ছেড়ে রানির প্যালেসে গিয়ে প্রায় একযুগ কাটান এস এম সুলতান। আবার এই বন্ধুত্বের টানেই একবার নড়াইলে এস এম সুলতানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
কৈশোরকালের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং এস এম সুলতানের স্মৃতিবিজড়িত কিছু কথা ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন সুলতানের ছাত্র ও প্রতিবেশী অ্যাডভোকেট শেখ শামীম আহমেদ।
বিজ্ঞাপন
বিখ্যাত এই দুজনের বন্ধুত্বের সূচনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে শামীম বলেন, এস এম সুলতানের বাবা শেখ মোহাম্মদ মেসের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। ব্রিটিশ ভারত আমলে এই মেসের আলীর কাছে একজন ব্রিটিশ লড আসেন তার ছবি আঁকিয়ে নিতে। মেসের আলী লডকে জানিয়ে দেন, তিনি ছবি আঁকতে জানেন না। তবে কাঠের গায়ে কারুকাজ করতে জানেন। এসময় এসএম সুলতান পাশ থেকে বলে উঠেন, পেনসিল দিয়ে লডের ছবি এঁকে দেবেন। লডের ছবি এঁকে দেওয়ার পর এক দিন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছবি আঁকার শিক্ষক হিসেবে এসএম সুলতানের ডাক আসে এবং তিনি সেখানে যান।
আরও পড়ুন: রানি এলিজাবেথের স্মৃতিবিজড়িত গাজীপুরের আদর্শ গ্রাম
শেখ শামীম আহমেদ বলেন, এসএম সুলতান গিয়ে দেখেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার সমবয়সী। ফলে ছবি আঁকা শেখানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। আর এই বন্ধুতের টানে এস এম সুলতান ১০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন রানির প্যালেসে।
এই আইনজীবী বলেন, ব্রিটিশ যখন এদেশ থেকে চলে গেল এবং দেশ ভাগ হলো; সেই সময় বন্ধুত্বের টানে এস এম সুলতানের সাথে দেখা করতে নড়াইলে আসেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এরপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একদিন রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটিশ রানির সাথে দেখা করতে যান। সেখানে রানি তাকে প্রশ্ন করেন, আমার সুলতান কেমন আছে। এসএম সুলতানকে না চেনায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ উত্তর দিয়েছিলেন- সুলতান ভালো আসেন। এরশাদ দেশে ফিরে প্রথমে এসএম সুলতানকে খুঁজে বের করেন এবং এসএম সুলতানকে বাড়ি-ঘর করে দেন।
শামীম বলেন, এসএম সুলতান বেঁচে থাকাকালে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বিভিন্ন প্রতিনিধি দল নড়াইলে এসে খোঁজ-খবর নিতো। তারা রানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও নিয়ে আসতো।
প্রতিনিধি/জেবি

