চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৬ পিএম
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি

সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছরে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম, বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন। 

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।

আয়োজরা বলেন, করোনা মহামারির আঘাতে সব বয়সী শিক্ষার্থীরা দুই বছরের বেশি সময় হারিয়েছে। আমরা চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করার দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানিয়েছি। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন দফতরে আমরা যোগাযোগ করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি। তাতেও কাজ হয়নি।

আন্দোলনকারীরা বলেন, এত বড় জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের উপেক্ষা স্বাভাবিকভাবেই এদেশের যুব প্রজন্মকে হতাশ করছে। আমাদের মধ্যে এই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে যে, আমাদেরকে কি সরকারের কখনোই লাগবে না নাকি আমরা এই দেশের ভাড়াটে নাগরিক?

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতা সাজিদ তেতু বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেছে। আরেকটি নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, কিন্তু সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করেনি। করোনা দুই বছরের বেশি সময় কেড়ে নেওয়ার পর বয়সসীমা হারিয়ে ফেলা চাকরিপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক। নিত্তনৈমিত্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে সারা দেশজুড়ে। জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ৭১ বার বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিটি উত্থাপিত হয়েছে, যার সাম্প্রতিক উদাহরণ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বক্তব্য।

তেতু বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত হয় এখন থেকে ৩১ বছর আগে, ১৯৯১ সালে। সেটাও অন্য সরকারের আমলে। তখন গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর আর এখন ৭৩। বিশ্বের ১৬২টি দেশে আমাদের চেয়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অধিক। বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতিতে যুবকের সংজ্ঞায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স বলা হচ্ছে, আবার এখানে ৩০ বছরে আটকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ। অথচ জনপ্রশাসন সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি লিখিতভাবে বয়সসীমা ৩৫ অনুমোদন করার জন্য সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তানভীর হোসেন বলেন, আমরা দেখি বিসিএসের চাকরিতে আবেদন করেন গড়ে চার লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু সাধারণ পদ গড়ে এক দেড় হাজার মাত্র বা তারও কম। তাহলে কেন বিসিএস কোয়াইলিফাই করার বয়সকে একটি নির্ধারক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই যে বাকি চার লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বাংলাদেশের নাগরিক যাদের অন্যান্য সরকারি চাকরি পেলেও সেটা আকাঙ্ক্ষিত বলে মেনে নেবে তাদের কথাও তো ভাবতে হবে? বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়ায় ২১-৩০ বছরের সময়সীমা এমন একটি অযৌক্তিক ও অবাস্তব তথ্য উপস্থাপন করা হয়, অন্যান্য সরকারি চাকরির সার্কুলারে ১৮-৩০ বছরের বয়সসীমা উল্লেখ থাকতে দেখি। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ২১ বছর বয়সে কোনো ধরনের শিক্ষার্থী কি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন, ১৮ বছরের কথা নাইবা বললাম? এটা নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক ও তামাশা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের পক্ষে সানিয়া সুমি, আসিফ হাসান, রাজ্জাক হাবিব, রবিউল বনি, রেজোয়ানা সুলতানা, সঞ্জয় সরকার, আব্দুল গাফফার, মর্তুজা হাসান, শ্রীমান মিঠু, পিন্টু সরকার, জহিরুল জান কিশোর সাহা, শাওন সোমা, তাসলিমা লিমা, আনোয়ার অনি, রাহান মাসুদ, কামরুল হাসান, পার্থ পাল, ফারহা জুবায়ের, মোশাররফ পাঠান, মুফা সুলতানা, তোফায়েল আহম্মেদ, জোবায়েদ মোল্লা, সোহেল শেখ, এম রাজন, মো. বোরহান।

ডিএইচডি/জেবি