আগুনে পুড়িয়ে স্ত্রীকে হত্যা

মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে বদলেছিলেন বাবা-মার নামও, শেষরক্ষা হয়নি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৪:৩০ পিএম
মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে বদলেছিলেন বাবা-মার নামও, শেষরক্ষা হয়নি

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার পর সাজা থেকে বাঁচতে বদলে ফেলেছিলেন নাম-পরিচয়। এমনকি বাবা-মার নাম পাল্টে বানিয়েছিলেন নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রও। এভাবে দীর্ঘ ২১ বছর পলাতক থেকেও শেষরক্ষা হয়নি আলমের। গ্রেফতার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-৪ এর সিও ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

এর আগে শনিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরের আটিপাড়া গ্রামের আলমের (৪০) সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার আম্বিয়া বেগমের (১৮)। বিয়ের তিন মাস না যেতেই যৌতুকের জন্য আম্বিয়াকে মারধর শুরু করেন। পরবর্তীকালে স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক চাইলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আলমকে ১০ হাজার টাকা দেন। তবে বাকি টাকা না পেয়ে আম্বিয়াকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেন আলম।

Arrested

এরপর একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আলম গোপনে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়ে স্ত্রীকে ডেকে নেন। ওই সময় যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আম্বিয়াকে মারধরও করেন। পরে পেট্রোল ঢেলে দেন স্ত্রীর গায়ে। এরপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। ওই সময় আম্বিয়ার আত্মচিৎকারে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি। তবে একদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ঘটনার পরদিন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আম্বিয়া।

ওই ঘটনায় আম্বিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। ওই মা,লায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীকালে আদালত মামলার চারজনকে খালাস দিলেও আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

সাজা থেকে বাঁচতে আত্মগোপন

হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান আলম। ঘটনার পর (২০০১ সালে) ঢাকায় চলে আসেন তিনি। এরপর গত ২১ বছর ধরে নিজের নাম ঠিক রেখে বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে নানা ছদ্মবেশ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ক্রমাগতভাবে নিজের পেশা বদল করে আসছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ, প্রতিবেশীর ফোনে উদ্ধার

প্রথমদিকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করলেও পরে আলম বাসা ভাড়ার দালালি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে গ্রেফতারের আগে বংশালের একটি জুতার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন আলম। এরমধ্যে নতুন করে বিয়েও করেছিলেন।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি

কৌশলে সাজা এড়াতে আলম নিজের পরিচয় পাল্টে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) তৈরি করেছিলেন। পুরান ঢাকার বংশালের কাজী আলাউদ্দিন লেনের ঠিকানা ব্যবহার করে বানিয়েছিলেন ভুয়া এনআইডি। সেই সঙ্গে ভুয়া এনআইডিতে নিজের মায়ের নাম পরিবর্তন করে আলেয়া বেগমের স্থলে জাহানুর বেগম ও বাবার নাম পরিবর্তন করে মো. রইস উদ্দিনের স্থলে মো. ইয়াসিন নাম ব্যবহার করে নতুন পরিচয়ে আত্মগোপনে ছিলেন আলম।

এমআইকে/আইএইচ