রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন ৩ শতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন ৩ শতাধিক পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত ৬ বছর ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোববার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে নিহত হওয়ার এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব প্রাপ্ততথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি এবং পিতা-সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। এসব ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং পিতা-সন্তান নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।

অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির চিত্র আরও ভয়াবহ। এসব দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১১৮টি, চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৯২টি, পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৫৩টি, ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৮টি এবং সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৩টি। সব মিলিয়ে ৫২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১ হাজার ৭২৮ জন।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪৬টি, চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৯টি, পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা ২৮টি, ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ২০টি, ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪টি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে একটি। এসব দুর্ঘটনায় মোট ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩১টি, চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ২৪টি এবং পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩৫২ জনের।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৫টি, চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৯টি, ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৭টি এবং ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩টি। মোট ৪৫টি এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন।

এ ছাড়া বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৯টি এবং চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৬টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত হওয়ার একটি ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে বা ভ্রমণে যাওয়ার প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স, চালকদের অদক্ষতা এবং বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো।

এ ছাড়া মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে সব মহাসড়কে সড়ক বিভাজক ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের সঙ্গে মহাসড়কের নিরাপদ সংযোগ নিশ্চিত করা এবং সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নজরদারির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর