রাজধানীতে আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী দশম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো (আইএফএসএসই-২০২৬)। এতে ২০টির বেশি দেশের ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে পাঁচটি বিশেষায়িত সেমিনারের আয়োজন করা হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আয়োজকেরা। ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএসএসএবি) আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে ২০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। ফায়ার, সেফটি ও সিকিউরিটি খাতের ১৩টির বেশি পণ্য ও সেবা বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসমাধান তুলে ধরা হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে পাঁচটি বিশেষায়িত সেমিনারে ২৫ জনের বেশি বক্তা নিরাপত্তা প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মান ও উত্তম চর্চা, শিল্প ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পিএসসি। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইএসএসএবির মহাসচিব নাঈম উদ্দিন মাহমুদ এবং সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম খান।
ইএসএসএবির প্রেসিডেন্ট স্কোয়াড্রন লিডার এম দিদারুল ইসলাম (অব.) বলেন, আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর নয়টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার দশম আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগের আয়োজনগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার দর্শনার্থী অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি তিন হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন সেমিনার ও জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া ও পাদুকা, প্লাস্টিক এবং খেলনাশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ছে। এসব খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা, শিল্পনিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রদর্শনীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সর্বোত্তম চর্চাকে স্বীকৃতি দিতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘ইএসএসএবি সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ফায়ার ফাইটারদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের পরিবারের অবদানকে সম্মানিত করতে দেওয়া হবে ‘অগ্নিবীর’ (অ্যাগনিবির) সম্মাননা।
অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও ইএসএসএবির যৌথ উদ্যোগে সরাসরি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের জাতীয় জরুরি হটলাইন ১০২ প্রচার এবং স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধনের জন্য বিশেষ বুথ স্থাপন করা হবে।
এ আয়োজনে সহযোগী হিসেবে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি। প্রদর্শনীর কনভেনিং স্পন্সর হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক অগ্নিনিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ন্যাফকো (NAFFCO)।
এম/এএস




