শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মজুরি বোর্ড সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য বেতন নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মজুরি বোর্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে মাহদী আমিন বলেন, বোর্ড গঠনের পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণাও স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই দেওয়া হয়েছে।
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে শ্রমিক ও পোশাক শিল্পের স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র উল্লেখ করেন।
শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড পরিচিতি পেয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গার্মেন্টস সেক্টরের প্রতি একটি বিশেষ আন্তরিকতা ও আবেগ নিয়ে কাজ করছে।
মাহদী আমিন বলেন, ঐতিহাসিকভাবে সবাই জানেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই কিন্তু বাংলাদেশে এই গার্মেন্টস সেক্টরের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় এই খাতের সর্বাধিক উন্নয়ন ও বিকাশ সাধিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আগে যা পাঁচ বছর পর পর হতো, এবার মাত্র তিন বছরের ব্যবধানেই আমরা নতুন মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করেছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই ঐতিহাসিক অবদানকে ধারণ করে শ্রমিক, মালিক ও সরকার— এই তিন পক্ষ এক হয়ে কাজ করলে এই শিল্পের বিকাশ কেউ রুখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাতকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে মাহদী আমিন বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মাঝে কিছু বহিরাগত উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর সাথে নিরীহ সাধারণ শ্রমিকরা জড়িত নন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা বলেন, আগামীকাল থেকেই আমাদের শ্রমিক ভাইবোনেরা স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগদান করবেন, এটিই আমাদের প্রত্যাশা। একই সাথে মজুরি বোর্ডের সাথে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শ প্রক্রিয়াও পুরোদমে চলমান থাকবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুসহ মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এএইচ




