বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করছে সরকার
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে শ্রমিকদের জন্য ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু করবে শ্রম মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা, শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরে শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবে সরকার।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে টঙ্গীতে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদিত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পটির প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু হবে।

Garment1

শ্রমিক-মালিক সংকট নিরসনে দুই পক্ষের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বল্প সময়ের নোটিশে শ্রমিক নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতায় শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নির্দোষ হয়েও যেসব শ্রমিক কারাবরণ করেছেন, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। তবে ভিডিও ফুটেজে যাঁদের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার দুপুর ১২টার আগেই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যার মধ্যে গেজেটও প্রকাশ করা হয়। আগামী চার দিনের মধ্যে আবারও মজুরি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং মালিকদের শিল্প পরিচালনার সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পকারখানা টিকে থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

এ সময় শ্রমিকদের আগামীকাল থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ডে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে হবে। কর্তৃপক্ষ যথাযথ সাড়া না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন বা আলোচনা ছাড়া সরাসরি কর্মবিরতি কিংবা অচলাবস্থা সৃষ্টির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন, ১০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকার কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করেন। নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পকে বাংলাদেশ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা কিংবা শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও কেউ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ মেনে নেবে বলে তিনি আশা করছেন। কারণ, বোর্ডে দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি রয়েছেন এবং তাঁরা সুপারিশ মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বানে সাড়া না দিলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ সহযোগিতা করলে শ্রমিকেরাও কাজে ফেরার আহ্বানে সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা করছেন।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর