পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবির আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মিরপুর ও পল্লবী থানায় ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে। এছাড়াও, গত দুইদিনে অভিযান চালিয়ে ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১২টায় এসব তথ্য জানান ডিএমপি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
তিনি জানান, গত কয়েকদিন মিরপুর এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পল্লবী ও মিরপুর মডেল থানায় মোট ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে।
এছাড়াও, মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর থানায় ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ জন গ্রেফতার আছেন। আজকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের গাড়িতে অগ্নি সংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা রুজু হয়েছে পল্লবী থানায়। এসব মামলার বাদী পুলিশ। প্রতিটি মামলায় ২ হাজার থেকে ২৫০০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে। তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ বলছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের একটি অংশ অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল। আন্দোলনের আড়ালে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
মিরপুরে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ-সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিরপুর-১০ নম্বর ও আশপাশের এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি। পথচারী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে।
একেএস/এআরএম




