রাজধানীর মিরপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের বিক্ষোভ করছে। সকালে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের এমন চিত্র দেখা যায়।
মিরপুর-১০ নম্বর ও আশপাশের এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামান রাখা হয়েছে। পথচারী ও সাধারণ মানুষকে সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়াও, সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে।
পুলিশ জানায়, এর ধারাবাহিকতায় আজ সকালেও মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করেন। তারা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশের বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার ভেতরে ফিরে যান।
এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পোশাক শ্রমিকরা আজকেও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। আমাদের অফিসাররা সকাল থেকে মাঠে আছে। ১০ নম্বর এলাকায় সড়কে নাম্বার চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এখন পর্যন্ত মিরপুর এলাকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, মিরপুর এলাকায় গত দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর মিরপুরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান নিয়ে সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম।
মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গতকাল রোববারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
একেএস/এআরএম




