প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান কর্তৃক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়া এবং সংবাদমাধ্যমটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারকে চরম বিদ্বেষমূলক আখ্যা দিয়ে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
রোববার (১ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান এবং কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল। এই আচরণের মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকেই অস্বীকার করেছেন।’
তারা উল্লেখ করেন, ‘আমার দেশ বা অন্য কোনো সংবাদপত্রের খবরে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতেন, এমনকি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ছাড়া ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে সংবাদপত্র সম্পর্কে তিনি কী বার্তা দিলেন?’
নেতারা মনে করেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা একটি স্পষ্ট উসকানিমূলক আচরণ। একইসঙ্গে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও আম-জনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরনো খবরকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তা শুধু উসকানিমূলকই নয়; বরং সম্পাদককে সরাসরি হুমকি প্রদানের শামিল।’
এনইসি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া এবং পত্রিকা অফিসে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও প্রায় একই ধরনের আচরণ করছেন।’
বিবৃতিতে নেতারা এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জোর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি দেওয়া এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে দেশে মূলত গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই সংকুচিত করা হচ্ছে।’
এর আগে শনিবার রাতে (৩১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে এসে নিজের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমটির সম্পাদককে নিয়েও নানা উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন।
একপর্যায়ে ভিডিও লাইভেই ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রিন্ট কপি ছিঁড়ে ফেলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘কোনো পত্রিকা নয়, আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি।’ রাশেদের ওই কর্মকাণ্ড বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এএইচ



