জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়া সেই তিন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার রাতে মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ওএসডি হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন- জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার উপসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) উপসচিব রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের উপসচিব নাহিদা বারিক। তারা সবাই ২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থী না হয়েও তারা ওই কোটায় চাকরি পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর এই তিন উপসচিবসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
অন্য তিন কর্মকর্তা হলেন- পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের হালিমা খাতুন, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মো. মিল্টন আলী বিশ্বাস এবং পুলিশ ক্যাডারের খোরশেদ আলম। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিয়েছে।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এই তিন উপসচিবকে সহকর্মীদের কেউ কেউ ‘ভুয়া উপসচিব’ বলেও অভিহিত করেন। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে ২৯তম বিসিএসের অন্য কর্মকর্তাদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থী না হয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওই কোটায় চাকরি নেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা।
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছয় কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্য, সাবেক সচিব, সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মামলার পর অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা আইনি জটিলতা নিরসনে তদবির ও দৌড়ঝাঁপ করছেন। বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিন উপসচিবকে ওএসডি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক মামলা করেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এমআর




