বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

অদক্ষতা-ফিটনেস নিয়ে কথা বললে ‘চালক ও মালিকরা একজোট হন’: সড়ক মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

অদক্ষতা-ফিটনেস নিয়ে কথা বললে ‘চালক ও মালিকরা একজোট হন’: সড়ক মন্ত্রী
বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

চালকদের অদক্ষতা এবং যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে কথা বললে ‘চালক এবং মালিকরা একজোট হন’ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সব চালক অদক্ষ নন; তবে যাদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় সড়ক ভবনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবহন মালিকদের উপযুক্ত চালক নিয়োগে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, মালিকেরা যদি যোগ্য চালক নির্বাচন করে তাদের নাম সুপারিশ করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চালকের যোগ্যতার বিষয়ে মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুর তথ্য নিয়ে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে সব দুর্ঘটনাকেই একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৮৪ জনের প্রাণহানির যে তথ্য সামনে আসে, তা কতটা সঠিক, কারা কীভাবে এই তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কতটুকু-এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকৃত তথ্য ছাড়া সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, চালকদের আচরণ, সচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিনের সমস্যা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেখ রবিউল আলম বলেন, চালকেরা যদি নিজের জীবনকে ভালোবাসেন এবং অন্যের জীবনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হন, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। চালকেরা গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ও নির্দেশনা না মানলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আচরণ ও দায়িত্ববোধে পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি জানান, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এসব এলাকার ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকা সংযোগস্থলগুলো চিহ্নিত করে যান চলাচলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। 

মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনুপযুক্ত যানবাহনে যাতায়াত, চলন্ত বাসে ঝুলে থাকা এবং যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে যেকোনো যানবাহন ও চালককে যথাযথ যাচাই ছাড়াই সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব। 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, সড়ক সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। 

এমআইকে/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর