মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মেট্রোরেলের নতুন দুই লাইনে চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মেট্রোরেলের নতুন দুই লাইনে চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি
মেট্রোরেলের নতুন দুই লাইনে চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ।

রাজধানীতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনা, উড়াল রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির অবকাঠামো উন্নয়নে এসব চুক্তি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতে সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

চার প্যাকেজে যেসব নির্মাণকাজ হবে

১. এমআরটি লাইন-১, প্যাকেজ সিসি-০২: ডিপোর জন্য ওয়ার্কশপ, ট্রেন রাখার শেড, পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগের সঙ্গে।

২. এমআরটি লাইন-১, প্যাকেজ সিসি-০৭: পাতাল রেলপথ থেকে উড়াল রেলপথে রূপান্তরের স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল নামে তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগের সঙ্গে।

৩. এমআরটি লাইন-৫-এর নতুন নর্দান রুট, প্যাকেজ সিসি-০২: ডিপোর জন্য প্রশাসনিক ভবন, পরিচালনা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও মেরামতাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে সিপিসি-হানিল যৌথ উদ্যোগের সঙ্গে।

৪. এমআরটি লাইন-৫-এর নতুন নর্দান রুট, প্যাকেজ সিসি-০৩: হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বীরলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা নামে পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগের সঙ্গে।

এএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর