মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ এএম

শেয়ার করুন:

‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা, আহত ৫
রাজধানীর পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে সোমবার রাতে হামলা চালিয়েছে একদল ব্যক্তি / ছবি: ঢাকা মেইল

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ কর্মসূচির জের ধরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনার পর পল্টন থানা ও মতিঝিল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে  ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহত দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে মানববন্ধনের ডাক দেন সংস্কৃতিকর্মীরা। সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় তারা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটকের পর রাত ৯টার দিকে দীপক শীলকে পুলিশ ছেড়ে দিলে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা তাকে পুরানা পল্টনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। এর আগে সাবেক এই ছাত্রনেতাকে আটকের প্রতিবাদে পল্টনে মশাল মিছিল করেন ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন ও উদীচীর নেতাকর্মীরা।

আনন্দ মিছিলটি পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের দিকে অগ্রসর হলে সেটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ ওঠে, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল ও ছাত্রদলের পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর চড়াও হয় এবং তা সিপিবির কার্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। একপর্যায়ে কার্যালয়ের সামনে কিছুসংখ্যক লোক জড়ো হয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং নেতাকর্মীদের মারধর করে।

এ ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইব আহম্মেদ আসিফ ও ক্রীড়া সম্পাদক আফসার সুপ্র মারধরের শিকার হন। এ ছাড়া যুব ইউনিয়নের ইরান মোল্লা ও সোহেল ফকির হামলার শিকার হয়ে আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সাংবাদিকও হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় ইরান মোল্লা ও সোহেল ফকিরকে আটক করে পল্টন থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কার্যালয়ের সামনে যুবদল ও ছাত্রদলের পরিচয়ে একটি ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর করেছে এবং উল্টো দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জলি তালুকদার বলেন, মিছিলকে কেন্দ্র করে এবং মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে এ উত্তেজনার সূত্রপাত।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল স্লোগান ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’। কিন্তু মিছিলের ওপর আক্রমণের মুখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। আর জয় বাংলা তো মূলত মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে প্রথমে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়, যা পরবর্তীতে শতাধিক ব্যক্তিতে রূপ নেয়।

CPB

জলি তালুকদার বলেন, তারা নিজেদের ছাত্রদল ও যুবদল বলে পরিচয় দেয় এবং দাবি করে এখানে আওয়ামী লীগের লোকজন ঢুকেছে। আওয়ামী লীগের কেউ যদি থেকেও থাকে, তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাদের পুলিশের কাছে দেওয়া যেত। কিন্তু তারা এসে মারধর করে এবং আমাদের দুই-তিনজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই ঘটনাটি ঘটে গেছে।

এদিকে সিপিবি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিব হাসান।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাসে আগুন ও ককটেল হামলার চেষ্টা করায় সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে নিয়ে তারা তা প্রতিহত করেছেন।

শাকিব হাসান বলেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করছে, বাস পোড়াচ্ছে, ককটেল মারছে। আমরা তো কাউকে বাসা থেকে ধরে আনিনি; রাস্তায় যারা অপকর্ম করছিল, তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে। আমাদের কাছে সব ফুটেজ ও প্রমাণ আছে। আপনি কীভাবে এটাকে হামলা বলেন?

কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্বশত্রুতা বা দ্বন্দ্ব নেই, তবে কেন আমরা হামলা করব? কিন্তু সেখানে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বাসে আগুন দেওয়ার এবং ককটেল মারার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেখানে বিশৃঙ্খলা বা মব তৈরির চেষ্টা হলে পথচারীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করেছি।

ঘটনাস্থলে নিজেদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম হামলার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে দাবি করেন, সেখানে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল আলম বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা নিজেদের হকার ও পথচারী বলে দাবি করেছেন।

তবে দুজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে আরিফুল আলম বলেন, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যদি তারা কমিউনিস্ট পার্টির লোক হন, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরএনবি/এফএ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর