শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শিশু নিপীড়ন অগ্রহণযোগ্য, আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়: হেফাজত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শিশু নিপীড়ন অগ্রহণযোগ্য, আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়: হেফাজত
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

ধর্মীয় সংগঠনটি বলছে, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়।’

নেতারা বলেন, ‘যে কোনো ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করাটা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই জরুরি।’

বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘শিশু যৌন নির্যাতনের সমস্যাটি পুরনো অভ্যন্তরীণ সামাজিক সমস্যা। এটি শুধু কোনো একটি কমিউনিটিকেন্দ্রিক সমস্যা নয়। স্কুল, মাদ্রাসা, এমনকি অন্যান্য পরিসরেও সমস্যাটি কমবেশি বিদ্যমান।’

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধ করতে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড এবং এর আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে প্রতিটি মাদ্রাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের যে কোনো অভিযোগ সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে যে, কোনো মাদ্রাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে, অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেটির অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অবলম্বন করতে হবে। সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে সব স্কুল-মাদ্রাসাকে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানান হেফাজত নেতারা।

তারা বলেন, ‘যে কোনো নৈতিক পদস্খলনের দায়ে দোষীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত উভয় শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস চলবে না।’

শৈশব ও কৈশোরের সুশিক্ষা ও নিরাপদ বেড়ে ওঠার দায়িত্বে কোনো ছাড় নয় বলেও জানান নেতারা।

এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর