শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নিজেদের গোষ্ঠীর অপরাধে আলেমরা সোচ্চার হন না কেন, প্রশ্ন আসিফ নজরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম

শেয়ার করুন:

নিজেদের গোষ্ঠীর অপরাধে আলেমরা সোচ্চার হন না কেন, প্রশ্ন আসিফ নজরুলের
আসিফ নজরুল। সংগৃহীত ছবি

মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। অন্য নানা বিষয়ে আলেমদের সোচ্চার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানতে চেয়েছেন, নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন না কেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘বাংলাদেশের আলেম সমাজে অনেক শ্রদ্ধেয় মানুষ আছেন। হজ করতে গিয়ে, নামাজের সময় কিংবা ইসলামী বয়ান শুনতে গিয়ে তাদের কাউকে কাউকে কাছে থেকে দেখেছি। আবার মাওলানা আহমাদুল্লাহর মতো কিছু আলেমের মানবিক কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়েছি। 

তিনি বলেন, কিন্তু তাদের বাইরেও বৃহত্তর আলেম সমাজে বহু মানুষ আছেন (যেমন: মাদ্রাসার শিক্ষক)। এদের কেউ কেউ শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ কবিরা গুনাহে লিপ্ত। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা হয়তো কম, কিন্তু একেবারে নগণ্য নয়। তারা দিনের পর দিন এমন জঘন্য পাপ করে চলেছেন, যে ধরনের পাপের কারণে আল্লাহ হজরত লুত (আ.)-এর সময়ের জাতিকে কঠোরতম শাস্তি দিয়েছিলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, আমার খুব অবাক লাগে যে, এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বড় একটি অংশকে কখনও সোচ্চার হতে দেখি না। খাবার, পোশাক, বিনোদন, বাক-স্বাধীনতা- নানা বিষয়েও তারা ফতোয়া দেন। দু-একটি ক্ষেত্রে মব তৈরি করে মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। অথচ নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধের বিরুদ্ধে নেতৃস্থানীয় আলেম, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা বা হুজুররা কেন সোচ্চার হতে পারেন না?

এ দেশে ইসলামবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আলেম সমাজকে বুঝতে হবে, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যেও সম্মানের সঙ্গে টিকে আছেন। কিন্তু বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে তাদের কেউ কেউ বরং অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন। এটি করলে এসব অপরাধের দায় কোনও না কোনোভাবে তাদের ওপরও বর্তাবে। তাদের অনেকে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হবেন। সামগ্রিকভাবে আলেম সমাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কমে যাবে। এতে বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আশা প্রকাশ করে পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘অচিরেই আলেম সমাজের নেতৃত্বের ঘুম ভাঙবে। মাদ্রাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে কঠোর বক্তব্য তাঁদের কাছ থেকে শুনতে পাবো। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তারা নিজেরাই সোচ্চার হবেন এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবেন।’

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর