মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির সময়কাল গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো)। এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য এমপিও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাবেশিকফোর সভাপতি মো. মাইন উদ্দীন বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি বলেন, তাদের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। দেশের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মো. মাইন উদ্দীন আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের বৈষম্য থাকা কাম্য নয়। একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন একই শিক্ষাব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করার পরও শুধু স্কুল ও মাদ্রাসার পৃথক নীতিমালার কারণে ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। এ ধরনের বৈষম্য শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে।
সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভা থেকে মোট ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও নীতিমালার ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা।
এ ছাড়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। বিএড ডিগ্রির কারণে যেন কোনো শিক্ষক আর্থিক বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে অভিজ্ঞতা গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্য ও অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা, পে-স্কেল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া ও বর্ধিত চিকিৎসা ভাতা নিশ্চিত করা এবং আগামী ঈদুল ফিতরে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান করা।
সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় বাবেশিকফোর নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আতিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শামীমসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এম/এসআই




