বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

উপকূল রক্ষায় বিনিয়োগ না বাড়ালে ক্ষতি হতে পারে ১৯৯ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

উপকূল রক্ষায় বিনিয়োগ না বাড়ালে ক্ষতি হতে পারে ১৯৯ বিলিয়ন ডলার
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। 

কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে ২০৫০ সাল নাগাদ এ অঞ্চলে বন্যার কারণে বছরে সর্বোচ্চ ১৯৯ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। আর শতাব্দীর শেষ নাগাদ এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে। 

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬: কোস্টাল রিস্কস অন দ্য রাইজ-অ্যাকশনস ফর এ রেজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩০টি উপকূলীয় অর্থনীতিতে বন্যার কারণে বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। যথাযথ অভিযোজন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ২০৫০ সালে এ ক্ষতি বেড়ে ১৭২ বিলিয়ন থেকে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২১০০ সাল নাগাদ বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫২০ বিলিয়ন থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে উপকূলীয় সুরক্ষায় সময়মতো বিনিয়োগ করা গেলে এই ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছে এডিবি। 

সংস্থাটির হিসাবে, এ খাতে বছরে ৯ বিলিয়ন থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্যাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৭৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

এডিবির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উপকূলীয় এলাকাগুলো। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব এলাকার ভূমি ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি, অভিযোজনযোগ্য ও ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান গ্রহণ জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিবির সদস্য দেশগুলোতে ৪০ কোটির বেশি মানুষ সমুদ্র উপকূল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে। এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো বিপুল জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র, পর্যটনস্থল ও বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক।

উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ক্ষুদ্র প্রবালদ্বীপনির্ভর রাষ্ট্রগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ কার্বন নিঃসরণের পরিস্থিতিতে ২১০০ সাল নাগাদ এসব রাষ্ট্রে বন্যাজনিত বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এ ছাড়া ব্যাংকক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোও উপকূলীয় বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শহরে বর্তমানে যে ধরনের ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যা ১০০ বছরে একবার ঘটার আশঙ্কা থাকে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা প্রতিবছর ঘটতে পারে।

উপকূলীয় দুর্যোগের প্রভাব পড়ছে আঞ্চলিক বাণিজ্যেও। বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যে স্থবিরতা ও অন্যান্য বিঘ্নের কারণে এ অঞ্চলে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনকে যুক্ত করার সুপারিশ করেছে এডিবি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন জোরদার, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে উপকূলীয় অভিযোজন খাতে অর্থায়নের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ২০১৫ সালে ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২২-২০২৩ সময়ে বছরে গড়ে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থায়ন এখনও অপর্যাপ্ত।

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর না করে সরকারি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও সহজ শর্তের অর্থায়নসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে এডিবি।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর