বর্তমান সরকার দেশের সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সবার জন্য। তাই রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে তা বিবেচনা করে সমবণ্টনের ভিত্তিতে দেশের সব এলাকার উন্নয়ন সমানভাবে কাজ করতে চাই। এ কারণে সম্প্রতি রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য একনেকের সভায় ১৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোর গ্রামগুলোতে স্কুল-কলেজের অবকাঠামো, সেতু, কালভার্ট, ব্রিজ ও সড়ক উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেগুলো দরকার সেগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে গড়ে তোলা হবে। যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও রাষ্ট্রের সুফল ভোগ করতে পারে। এই কাজগুলো করতে হলে ভেদাভেদ ভুলে আমাদের একসঙ্গে চলতে হবে। আমরা সবাই সবার হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের সময় আমরা কিন্তু কোনো ধর্ম দেখিনি। বিভিন্ন ধর্ম ও মতের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিল, মানুষ রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। যেসব মানুষ নেমে এসেছিল তাতে সব ধর্মের মানুষই ছিল। সকল মতপথ ও পেশার মানুষ ছিল।
‘একইভাবে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে দেশ থেকে বিদায় করতে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ প্রতিটি পেশার মানুষ রাজপথে সেদিন নেমেছিল তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এই দেশটি সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে শান্তিতে। আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যখন ঐক্যের ডাক দিয়েছি, তখন একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আজকে পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলতে চাই, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই ফলাফলটা খুব শুভ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ সেই ফলাফল ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, কোন কোন মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
‘গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না। আপনাদের কিছু বলার থাকলে, কিছু তুলে ধরার থাকলে সংসদে তুলে ধরুন। সেখানে ভালোটা গ্রহণ করা হবে। তারপরও বাইরে স্কুল, কলেজ, চাকরি ও জনগণের ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাঘাত ঘটাবেন না।’
এর আগে দুপুর ১২টার পর পূজামণ্ডপে পৌঁছে মন্দিরে থাকা ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। উপভোগ করেন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এরপর রংপুর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন। এছাড়াও মন্দিরের উন্নয়নে আরো পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। ধর্মসভায় বক্তব্য শেষে সড়কপথে রাজশাহী যাওয়ার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন সরকারপ্রথান।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্ননয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব পরিতোষ চক্রবর্তিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি/এমআর




