শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা, ছবি তোলা এবং ঢাকের তালে নাচ-গানে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মানুষের আনাগোনা আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয়েছে আনন্দঘন পরিবেশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে সনাতন সমাজকল্যাণ সংঘের পূজামণ্ডপেও দেখা যায় এমন চিত্র। চলতি বছর সপ্তমীর তিথি দুই দিনে পড়ায় গতকালও মহাসপ্তমী উদ্যাপন করেন অনেকে। তবে বেশ কয়েকটি মণ্ডপে শনিবারই সম্পন্ন হয়েছে সপ্তমীর পূজার আনুষ্ঠানিকতা। খামারবাড়ির মণ্ডপেও শনিবার সপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী।
আজ (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাষ্টমী। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে নয়টায় রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হবে কুমারীপূজা। অন্যদিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপূজা। পরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
গতকাল খামারবাড়ির পূজামণ্ডপে বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে এসেছিলেন পূজা ভৌমিক। মণ্ডপে পৌঁছেই মা দুর্গার প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রণাম করেন তিনি। দুই হাত জোড় করে কিছুক্ষণ প্রার্থনার পর শুরু হয় ছবি তোলার পালা। কখনো একা, কখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিমার সামনে ছবি ও সেলফি তোলেন তিনি।
পূজা বলেন, গত বছর পরীক্ষার ব্যস্ততায় দুর্গোৎসবের আনন্দ ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারেননি। এবার চাকরিতে যোগ দিলেও ছুটি পাওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। তাই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা দর্শন করছেন। তিন দিনে ৩০টিরও বেশি মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দেখেছেন বলে জানান তিনি।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের পূজামণ্ডপে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায়, কেউ ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মাইক্রোবাসে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসেন। আবার অনেকে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে নেমে হেঁটে পৌঁছান মণ্ডপে।
মণ্ডপে প্রবেশ করে প্রথমেই মা দুর্গার প্রতিমার সামনে প্রণাম করতে দেখা যায় অনেককে। কেউ প্রণাম শেষে প্রণামি দেন, কেউবা নীরবে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন। পূজা শেষে প্রতিমার সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। মণ্ডপে বাজতে থাকে পূজার গান, আর সেই সুরে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা।
সন্ধ্যার পর ঢাকের বাদ্য শুরু হলে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঢাকের তালে নাচতে দেখা যায় দর্শনার্থীদেরও। কেউ স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন সেই দৃশ্য। ধর্মীয় আচার, প্রতিমা দর্শন ও সাংস্কৃতিক আনন্দ—সব মিলিয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।
মা-বাবার সঙ্গে প্রতিমা দেখতে ধামরাইয়ের বণিক বাড়ি থেকে ঢাকায় এসেছে দেবাদৃতা কর্মকার। দুর্গোৎসবের আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলে, ‘আমার অনেক ভালো লাগছে। দুর্গা মায়ের প্রতিমা দেখছি। অনেক সুন্দর সুন্দর প্রতিমা।’
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের এই মণ্ডপে টানা ৩৬ বছর ধরে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করছেন পুরোহিত অবিনাশ চক্রবর্তী। দেবী দুর্গার কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মায়ের কাছে আমাদের চাওয়া, তিনি যেন এই পৃথিবীর সবাইকে সুস্থ রাখেন, নিরাপদে রাখেন। এই ধরা যাতে আরও সুন্দর হয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা, বন্ধন ও সম্প্রীতি যাতে আরও বাড়ে।’
/এএস




