ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানো, স্থান সংকট দূর করা এবং আধুনিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র। সেখানে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন, প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গাড়ির পার্কিং, মসজিদ, আধুনিক মিলনায়তন, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন সচিবালয়ের পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ে মোট ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট আয়তনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ভবনগুলোতে থাকবে তিনটি বেজমেন্ট। স্থাপত্য অধিদফতর প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে।
নতুন সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের যানবাহন রাখার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে ২০০টি গাড়ি রাখার জায়গা থাকবে ভূ-উপরিভাগে। বাকি পার্কিংয়ের বড় অংশ বেজমেন্টে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৩৫০ জন করে ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি আধুনিক মাল্টিপারপাস হল থাকবে। সভা, সম্মেলন ও বিভিন্ন দাফতরিক আয়োজনের কাজে হলগুলো ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি ক্যাফেটেরিয়া এবং ডাক যোগাযোগের সুবিধায় একটি ডাকঘর রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পুরো প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে নতুন সচিবালয় এলাকায় উন্মুক্ত স্থান ও সবুজ পরিবেশ তৈরির সুযোগ থাকবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমিতে ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। পুরনো কয়েকটি ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং একটি ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়। এসব ভবনের ভূমিকম্প সহনশীলতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বর্তমানে সচিবালয়ে অফিসের জায়গা রয়েছে প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজন এবং সচিবালয়ের বাইরে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এক জায়গায় আনার জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পর্যাপ্ত ওয়াশ-ব্লকের অভাব ও অতিরিক্ত লোকসমাগমও বর্তমান কর্মপরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নতুন সচিবালয় নির্মাণের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক ও সমন্বিত প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরের নতুন স্থানে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
বিইউ/জেবি




