রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১১টি মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এ সময়ে রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

রাজধানীতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএফএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত সাতদিনে ঢাকা মহানগর এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার বাইরে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে রাখা এবং নোংরা পরিবেশে খাবার উৎপাদনের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের মৌচাক বেকারিতে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে বিএফএসএ। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবেশন ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।

টিএই/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর