কত শত রাত একসঙ্গে কাটিয়েছেন। কত শত কাপ চায়ে ভাগাভাগি করেছেন সুখ-দুঃখ। কয়েক দিন আগেও বন্ধুর বাসায় গিয়ে নিজের হাতে রান্না করা খাবার খেয়েছেন। অথচ আজ সেই প্রিয় বন্ধু কোথায় আছে, কেমন আছে, বেঁচে আছে কিনা জানা নেই কিছুই। কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর এক রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যাসহ নিখোঁজ নাহিদুর রহমানকে নিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণ করেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু মো. হাদিউজ্জামান।
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর চার সদস্যের এই পরিবারের সন্ধানে উদ্বিগ্ন স্বজনরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে অনলাইন মার্কেট প্লেস জটিল ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাদিউজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে বন্ধুকে নিয়ে এমন স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু নাহিদকে হারালাম চিরজীবনের জন্য।’
হাদিউজ্জামান জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি প্রথমে নাহিদের বাবাকে ফোন করে জানতে চান ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কখন কথা হয়েছে। নাহিদের বাবা আগের রাতে কথা হওয়ার ব্যাপারে জানিয়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চান। তখন বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার কথা বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে থাকেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টটির একটি কক্ষ বুকিং করেছিলেন নাহিদ। ১৮ অক্টোবর দুপুরে তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের চার সদস্যের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
বন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাদিউজ্জামান লেখেন, ‘নাহিদ, আমার দেখা সেরা একটা মানুষ। বাচ্চাদের প্রতি তার যে ভালোবাসা, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’
তিনি জানান, কত শত রাত এক সঙ্গে কাটিয়েছেন। কত শত কাপ চা খেয়েছেন, তার হিসাব নেই। কয়েক দিন আগেও নাহিদের বাসায় গিয়েছিলেন। বন্ধু নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছিলেন তাকে। সেই মানুষটির আজ কোনো খোঁজ নেই।
১৯৯৩ সাল থেকে তাদের বন্ধুত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে নাহিদ ঢাকায় তার সঙ্গেই ছিলেন। একসঙ্গে কাটিয়েছেন ব্যাচেলর জীবনের দিনগুলো। বন্ধুত্বের পাশাপাশি ২০০৪ সাল থেকে তারা সক্রিয়ভাবে মানবাধিকার নিয়েও কাজ করেছেন।
হাদিউজ্জামানের কাছে নাহিদ ছিলেন পরিবারের সদস্যের চেয়েও বেশি আপন। বন্ধুর স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যার কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে হাদিউজ্জামান লেখেন, ‘নাহিদ যেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে থাকতে পারেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সেখানে একসঙ্গে থাকার সৌভাগ্য অর্জন করেন।’
এমআইকে/এফএ




