রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও কঠোর হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান ইশরাক হোসেন। এ সময় তার হাতে পিস্তল ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।
মাদকাসক্তির কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দাদের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাইরে থেকে যারা এলাকায় মাদক সরবরাহ করে, তাদের আটক করতে সহযোগিতা করতে পারবেন—এমন ব্যক্তিদের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন
ঢাকা-৬ আসনে মাদক, যানজট ও ফুটপাত দখলের সমস্যা তুলে ধরলেন ইশরাক
জিয়ার সমাধিতে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি, ধাক্কা খেলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর নির্বাচনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সারা দেশেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে মাদক কারবারের কোনো জায়গা থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে। তাদের বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি হবে।
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জেবি




