মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ধ্বংসস্তূপ চকবাজারের মনসুর খান প্লাজা, ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ধ্বংসস্তূপ চকবাজারের মনসুর খান প্লাজা, ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার
মনসুর খান প্লাজা

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলি। সেখানে অবস্থিত মনসুর খান প্লাজা, যেখানে এক দিন আগেও ছিল বেচাকেনার ব্যস্ততা। ব্যবসায়ী, কর্মচারী আর ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর ছিল মার্কেটটি। এক দিনের ব্যবধানে সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। আগুনে পুড়ে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পোড়া মালামাল।

আর সেই পোড়া মালামাল থেকে বাতাসে ভেসে আসা ধোঁয়ার গন্ধ যেন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষ্য দিচ্ছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটটি নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বাইরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টার অভিযান শেষে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ শেষ হয়নি। ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ধোঁয়া ও তাপের কারণে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে। সরু রাস্তা, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি, ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকা এবং শাটার ভাঙতে বেগ পেতে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ব্যাহত হয়। এ ছাড়া পানির উৎসও ছিল সীমিত বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান দেখতে মালিকেরা

সকালের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও গুদামের অবস্থা দেখতে মার্কেটে আসতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আগুনে কী পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তার হিসাব করতে পারছেন না অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

Mansur_Khan_Plaza-Fire

মার্কেটের এক দোকানের কর্মচারী সাজিদ জানান, সেখানে তার মালিকের ব্যাগের দোকান রয়েছে। আগের দিনও দোকানে বেচাকেনা হয়েছে। অথচ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে।

সেহজাদ নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, সকালে ষষ্ঠতলায় উঠে চারপাশে পোড়া মালামাল পড়ে থাকতে দেখেছেন। মালিকের দীর্ঘদিনের ব্যবসা এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, তা কখনো কল্পনাও করেননি।

অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের অন্য তলাগুলোতেও সতর্কতা দেখা গেছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন কর্মচারীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেট ও আশপাশের দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন ডেসকোর কর্মীরা।

গুদামের মালামালে জটিল হয় আগুন নেভানোর কাজ

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের গুদাম ছিল। বিশেষ করে ষষ্ঠতলার গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন নির্বাপণের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, ষষ্ঠতলায় ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে আটটিতে আগুন লাগে। এসব গুদামে ছাতা, কসমেটিকস, আতরের বোতল ও আতরসহ বিভিন্ন পণ্য রাখা ছিল।

গুদামগুলো মালামালে পরিপূর্ণ থাকায় সেগুলো সরিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, মালামালের নিচে জমে থাকা তাপ থেকে পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন গুদাম পরীক্ষা করে পানি দেওয়ার পাশাপাশি মালামাল সরানোর কাজ চলছে।

Mansur_Khan_Plaza-Fire2

আগুনের কারণ নিয়ে তদন্ত

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভবনে বিদ্যুতের সংযোগ থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ফায়ার সার্ভিস। তবে তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম চলমান থাকায় এখনই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর আগুন লাগার কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, মানুষের আশঙ্কা অনুযায়ী পুরো মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ভবনের ষষ্ঠতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তম তলায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় আশপাশের মার্কেটগুলোকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

এমআইকে/এমএইচ/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর