রাজধানীর শ্যামপুরের করিমুল্লাবাগ এলাকায় তাসরিন জাহান (২৪) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী রনি আহমেদ ও শাশুড়ি রোকিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে তাসরিনের মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাসরিনের সঙ্গে রনি আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাসরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
তাসরিনের মামা সেলিম অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হয়েছে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সোকেস, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও নগদ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে তার অভিযোগ।
সেলিমের দাবি, টাকা না দিলে তাসরিনকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া কিংবা মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত তাসরিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মামা সেলিম আরও অভিযোগ করেন, তাসরিনের মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এ জন্য মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে দুপুরের দিকে তাসরিনের পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে গিয়ে তাসরিনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্যামপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
ওই কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় শ্যামপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এমএমআর/এএইচ




