দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ খুঁজতে ঢাকায় এসেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকাস্থ কানাডা হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, চার দিনের এই সফরে তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ ছাড়া তিনি ঢাকা ও কক্সবাজারে কানাডার সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী ও তরুণদের অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে এসব কার্যক্রমের ভূমিকাও তিনি মূল্যায়ন করবেন।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদারে কানাডার আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০২৫ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।
কানাডা মনে করে, বাংলাদেশে সুশাসন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংস্কার অব্যাহত থাকলে স্বচ্ছতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশকে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি সরকারি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে দেশটি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, জলবায়ু সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশে ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর,বি-র মতো উল্লেখযোগ্য ও শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থাকে সহায়তা দিয়েছে কানাডা। বর্তমানে সংস্থা দুটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উন্নয়ন সহায়তাকে বিবেচনা করছে কানাডা সরকার।
কক্সবাজার সফরকালে সারাইয়ের রোহিঙ্গা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি সংকট মোকাবিলায় নিয়োজিত মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এই সংকটে অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে কানাডা।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অটোয়া এ পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। এ সহায়তার আওতায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীও রয়েছে।
অভিন্ন সমৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এগিয়ে নিতে কানাডা সরকার অব্যাহত মানবিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
/এএস




