আসন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সূত্র জানায়, আগামী জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা আগামীকাল (১২ অক্টোবর) কমিশন সভায় চূড়ান্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সব বিষয়ই এ সভায় চূড়ান্ত করবে কমিশন।
সূত্র জানায়, আমরা প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা করেছি, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রতি কেন্দ্রে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এখানে অস্ত্রসহ একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ কনস্টেবল, অস্ত্রসহ দুজন আনসার সদস্য এবং লাঠিসহ ১৫ জন আনসার কিংবা গ্রাম পুলিশ থাকবেন। তাঁদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও সাতজন নারী সদস্য থাকবেন।
সূত্র আরও জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে মোবাইল ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও র্যাবের সমন্বয়ে প্রতি উপজেলায় দুটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এ ছাড়া প্রতি উপজেলায় দুটি প্লাটুন বিজিবি মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকবে এবং এক প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বে থাকবে। উপকূলীয় উপজেলাগুলোর জন্য প্রতি উপজেলায় দুটি প্লাটুন কোস্ট গার্ড মোবাইল টিমের দায়িত্ব পালন করবে এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে এক প্লাটুন কোস্ট গার্ড।
সূত্র আরও জানায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের পরদিন পর্যন্ত আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রতি উপজেলায় একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরের দিন, অর্থাৎ মোট চার দিনের জন্য আচরণবিধি প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য প্রতি উপজেলায় অতিরিক্ত তিনজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরের দিন, অর্থাৎ মোট চার দিনের জন্য ইউনিয়নপ্রতি কমপক্ষে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হতে পারে।
ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরের দিন, অর্থাৎ মোট চার দিনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা নির্ধারণ করা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী।
সূত্র আরও জানায়, আগামীকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) কমিশনের ১৩তম সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এ বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয় ধাপে হবে এবং কোন কোন সময়ে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, জানতে চাইলে সূত্র জানায়, পাঁচ ধাপে নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম তিন ধাপ রমজানের আগে অনুষ্ঠিত হবে। আর বাকি দুই ধাপে এসএসসি পরীক্ষা শেষে মে মাসে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে জানান, আমরা রমজানের আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তিনটি ধাপ শেষ করতে চাই। পরবর্তী সময়ে অন্য ধাপগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল কবে ঘোষণা হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে আমরা ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতাম। কিন্তু এবার সময়টা কিছুটা কমিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের ব্যবধান রেখে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল বৈঠক হওয়ার পর বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সোমবার কমিশন সভায় আমরা দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে জানিয়ে দেব। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়টি স্লটে এবং কবে কবে অনুষ্ঠিত হবে, সব তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
তফসিল ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, তফসিল আমরা ঘোষণা করব না। তফসিল ঘোষণা করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। আমরা স্লটগুলো জানিয়ে দেব, কোন কোন স্লটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জানা যায়, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ১৭০টি ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ণ মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। এ ছাড়া ১ হাজার ১৯৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, ৪ হাজার ৩৬৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী। অবশিষ্ট ২১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালের মধ্যে উত্তীর্ণ হবে।
এমএইচএইচ/এআর




