ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীর ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রতি শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলে ঢাকা শহর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিন মাসের এ কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকবে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।
আবদুস সালাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও শুধু তাদের পক্ষে পুরো নগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। এজন্য জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কোথাও ব্যক্তিগতভাবে জমে থাকা পানি অপসারণ সম্ভব না হলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে; কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তা অবিলম্বে অপসারণ করা হবে।
পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে আবদুস সালাম বলেন, গণমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার অব্যাহত রাখায় নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। সবাই সচেতন হলে এ কার্যক্রম আরও সফল হবে।

এদিকে একই দিন রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয় ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ব্যবসা নয়, বরং মানুষ হিসেবে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই নীতিতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান; ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান।

সব ধর্মের মানুষের প্রতি সমান আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার মানবিকতা ও নৈতিকতা ব্যক্তিজীবনে চর্চা করতে হবে। সমাজ থেকে মাদক, অনৈতিকতা ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
এ সময় মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংস্থাটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এফএ




