‘গড়ি একসঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করল শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্ট। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বনানী ক্লাবে ট্রাস্টের উদ্বোধন ও যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
‘শিক্ষা, সংযম, শৃঙ্খলা’- এই মহতী মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এক নতুন মানবিক ও সামাজিক অধ্যায়ের সূচনা করল বিএএফ শাহীন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই প্ল্যাটফর্ম। বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা ‘শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্ট’ (এসসিটি)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিএএফ শাহীন কলেজ তেজগাঁও, ঢাকার ১৯৮৯ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রায় দুই বছরের আলোচনা সভা ও পরামর্শের ভিত্তিতে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করে একটি মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ট্রাস্টটি গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে থাকা শাহীনদের বৈশ্বিক যোগাযোগের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ব্যাঙ্কুয়েট হলের প্রবেশদ্বারে আমন্ত্রিত অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসা জানান ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য সেলিনা সুলতানা, ফজল সালাউদ্দিন ও রোজানা রউফ। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা ইশারা ভাষায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে, যা অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
এরপর শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের চেয়ারপারসন দাতা মাগফুর অংশীদারিত্ব ও টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘এই অর্থপূর্ণ উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের এই যাত্রায় আমাদের সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে।’
চেয়ারপারসনের বক্তব্যের পর শুরু হয় ‘জার্নি অফ ৮৯’ পর্ব। এ পর্যায়ে ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য শাহনাজ শারমীন এই ট্রাস্ট গঠনের পেছনের মূল গল্পটি সবার সামনে অত্যন্ত আবেগঘনভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কীভাবে স্কুলের দিনগুলো শেষ করে বন্ধুরা যার যার কর্মজীবনে প্রবেশ করে এবং এক সময় অনুভব করে যে সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করা প্রয়োজন; মূলত সেই তাড়না থেকেই শুরু হয় এই ট্রাস্টের ভাবনা। এই মহৎ উদ্যোগে পর্দার আড়ালে থেকে প্রবাসে থাকা বন্ধু এবং দেশের বন্ধুদের দারুণ ও নিঃস্বার্থ সমর্থনের গল্পটিও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এরপর ডিজিটাল স্ক্রিনে ট্রাস্টের জন্মলগ্নের স্মৃতি ও ১৯৮৯ সালের সোনালী দিনগুলো নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র ‘দ্য জার্নি অফ ৮৯’ প্রদর্শন করা হয়।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চেয়ারপারসন দাতা মাগফুর ট্রাস্টের সকল সম্মানিত ট্রাস্টি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে ট্রাস্টের শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি ট্রাস্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.shaheencares.org-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: রেলের কালোবাজারি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক মাসের ক্ষমতা চান মিলন
পরে শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ৫টি মূল স্তম্ভ- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বনির্ভরতা, যুব কর্মসংস্থান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ যত্ন, এনজিওগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাক্তন শিক্ষকসহ বৃহত্তর শাহীন পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো- অতিথিদের সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ। একই সঙ্গে তিনি সাতারকূল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা (এসপিইউএস)-এর সঙ্গে ট্রাস্টের যৌথ কাজের রূপরেখাও তুলে ধরেন।
এই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এরপর অনুষ্ঠিত হয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ঢাকার সাতারকুলে অবস্থিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাইবোনদের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩ বছর মেয়াদি এই যৌথ প্রকল্পের চুক্তিতে শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ এবং সাতারকূল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পক্ষে সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বলা বনিক স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাতারকূল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার (SPUS) সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বলা বনিক ট্রাস্টের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে এসব শিশুকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা খুব দ্রুত সম্ভব হবে। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই অংশীদারিত্ব আমাদের লক্ষ্য অর্জনে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। নতুন এই পথচলা আমাদের লক্ষ্যগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে।’
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাতারকূল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চমৎকার পরিবেশনায় একটি আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় উন্মুক্ত আলোচনা।
এই সেশনে উপস্থিত অতিথিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ট্রাস্টের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন ট্রাস্টের বোর্ড মেম্বার ব্যারিস্টার মাজেদুল ইসলাম ও অনির্বাণ আফতাব।
আয়োজনে বিএএফ শাহীন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ, সমাজকর্মী, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে, প্রাক্তন শাহীনদের সবাইকে এই কল্যাণমূলক ট্রাস্টের সাথে যুক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন শাহীন কেয়ার্স ট্রাস্টের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ জনাব আনিসুজ্জামান নাসের খান।
বিইউ/এসআই




