বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বাসা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শ্যালক ফকরুলকে হত্যা করেন দুলাভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বাসা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শ্যালক ফকরুলকে হত্যা করেন দুলাভাই

রাজধানীর শাহজাহানপুরে বাসা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন নূর আফসানা নিপা ও ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, লাল রঙের হেলমেট ও ঘটনার সময় পরা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশিদ জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে নয়টার মধ্যে উত্তর শাহজাহানপুরের একটি বাসায় ফকরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার স্ত্রী বাসায় ফিরে খাটের ওপর স্বামীর গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।

এই উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করা হয়। ফুটেজে লাল রঙের হেলমেট পরা এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে চলাচল করতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার তোপখানা রোডের একটি অফিস থেকে নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

Dmp-1

সুজনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি লাল রঙের হেলমেট, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি এবং ঘটনার সময় পরা পোশাক উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে নিহতের শরীর ও ক্ষতস্থান, বিছানা এবং অন্যান্য স্থান থেকে রক্তের নমুনা, হাতের নখের সোয়াব, মোবাইল ফোন ও সিগারেটের বাটসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

হারুন অর রশিদ আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঘটনাস্থলের বাড়িটি নিহতের নানার সম্পত্তি ছিল। পরে সেটি দুই বোনের মধ্যে বণ্টন করা হয়। নিহত ফকরুল আর্থিক সংকটে পড়লে খিলগাঁওয়ে নিজস্ব দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন। তবে বাসাটির গ্যাস-পানির বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে বিরোধ ছিল। তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হতো। সবশেষ গত আগস্ট মাসেও বাসা ছাড়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে ভিকটিমের ভাষ্য ছিল, সে মরার আগ পর্যন্ত বাসা ছাড়বে না।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় মামলা হয়েছে। এতে আব্দুস সামাদ সুজনকে ১ নম্বর এবং নূর আফসানা নিপাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তাদের দুজনকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা এবং এতে বোন ও ভগ্নিপতির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা জানা যাবে।

‎একেএস/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর