জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহজপ্রাপ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কার্বন মার্কেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। জলবায়ু অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ কারণে অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্থানীয় বাস্তবতানির্ভর ও ফলাফলমুখী করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
ইউএনডিপির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ সংরক্ষণে উন্নয়ন সহযোগীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন সংগ্রহ এবং বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির কারিগরি সহযোগিতা আরও জোরদার করা দরকার।
সাক্ষাতে জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশের অর্থায়ন পরিকল্পনা (বায়োফিন), নিম্ন-কার্বন উন্নয়নে ন্যাশনাল কুলিং প্ল্যান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল, পার্বত্য এলাকা, হাওর ও খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধান এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জলবায়ু অভিযোজন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে আগ্রহী ইউএনডিপি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতসহ বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সফল উদ্যোগগুলো বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখবে ইউএনডিপি।
সাক্ষাতে চলমান যৌথ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করার পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন, উষ্ণতা হ্রাস, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্বন ক্রেডিটকে কেন্দ্র করে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম/এফএ




