বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে দেশের ৬ কোটি মানুষ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে দেশের ৬ কোটি মানুষ 

বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বাজারে সব নিত্যপণ্যের দাম চড়া। বাড়ছে বাসা ভাড়া এবং গণপরিবহনের ভাড়াও। আর পারা যাচ্ছে না। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এমনই দশা সাধারণ, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের। বিশেষ করে যারা স্বল্প আয় করেন এবং তা দিয়েই সংসারের যাবতীয় খরচা মেটান, তাদের সবার অবস্থাই শোচনীয়।  

ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমসারির কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলছিলেন, গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার খরচ যেভাবে বেড়েছে, সেটার বিপরীতে সামান্যই আয় বেড়েছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে এখন রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবকিছুর খরচ এত বেড়েছে যে, বেতনের টাকা দিয়ে মাস পার হচ্ছে না। আগের কিছু সঞ্চয় ছিল, সেটাও এখন প্রায় শেষের দিকে। এভাবে যদি জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে সংসার কীভাবে চালাবো, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খবর কীভাবে দেবে, সেটাই ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছি না।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত চার বছরে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। আরও প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ, যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করছেন, তারাও দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতির পেছনে মোটাদাগে যেসব কারণের কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক, তার মধ্যে ছয়টি বিষয় উঠে এসেছে– কোভিড মহামারি, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি পদ্ধতিতে দুর্বলতার কথা।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মানুষকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বাংলাদেশ যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, দুর্বল অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সেটি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বছর ছয়েক আগেও বাংলাদেশকে যেখানে দারিদ্র্য বিমোচনে ‘বিশ্বের মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেখানে আবারও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করল কীভাবে?

সাড়ে পাঁচ দশক আগে বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা অর্জন করে, তখন অর্থনীতির অবস্থা ছিল একেবারেই দুর্বল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের বেশিরভাগ মানুষ তখন ছিল দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্গত। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ক্রমেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে থাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, সত্তরের দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল, পাঁচ দশকের মধ্যে সেটি উল্লেখযোগ্য হারে কমে ২০ দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে আসে। 

২০২০ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের ‘মডেল’ ঘোষণা করেছিল করে বিশ্বব্যাংক। এর দুই বছরের মাথায় দারিদ্র্যের হার আরও কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায় বলে বিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে তখন অতি দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরিভাবে দারিদ্র্যমুক্ত হবে বলে তখন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা।

কিন্তু বছর না ঘুরতেই পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি। করোনা মহামারির সময় অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন কাজ-কর্মে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, ক্রমেই সেটির প্রভাব দৃশ্যমান হতে থাকে অর্থনীতিতে।

বিবিএসের হিসেবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেটি কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ অবস্থায় বাংলাদেশে আবারও বাড়তে দেখা যাচ্ছে দারিদ্র্যের হার।

২০২২ সালে দেশে অতি দারিদ্র্যের হার যেখানে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সেইসঙ্গে মোট দারিদ্র্যের হারও আগের চেয়ে বেড়ে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান বিবিএসের।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ‘খারাপ সময়ে’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামে গত মঙ্গলবার সংস্থাটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে এখনো প্রবৃদ্ধি কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর একটা বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়।

মূলত করোনা মহামারির কারণে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার একপর্যায়ে বাংলাদেশের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। যেসব প্রতিষ্ঠান তখন টিকে ছিল, তারাও অর্থনৈতিক চাপের মুখে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটে।

অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এতে বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অনেকেই পরে আর ফরমাল সেক্টরে ফিরে আসতে পারেননি, অর্থাৎ কাজ খুঁজে পাননি বলে জানা যাচ্ছে।’ 

মূলত করোনাকালে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, পরবর্তীতে নতুন বিনিয়োগ এলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছাবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি। উল্টো দেখা গেছে, লাগাতার অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের মতো ঘটনার কারণে ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাত ভেঙে পড়েছে।’

এমন পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। কিন্তু ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়, সেটার কারণেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেভাবে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাননি না বলে জানাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। সেইসঙ্গে বেড়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশে টানা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির হার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে এর বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত করোনা মহামারিতে চাকরি হারানোসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষের আয় কমে গেছে।

এর মধ্যেই বছর বছর বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। এতে বাজারে বাড়তে দেখা যাচ্ছে জিনিসপত্রের দাম। অন্যদিকে, দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়ে গেছে। সংসার চালাতে অনেকে নিজের জমানো টাকাও খরচ করছেন।

খুলনার বাসিন্দা বিলকিস আকতার বলছিলেন, ‘সঞ্চয় রাখবে কীভাবে? সংসার চালাতেই তো হিমশিম খাচ্ছি।’

কেউ কেউ আবার জায়গা-জমিসহ মূল্যবান বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। ঢাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘জায়গা-জমি বিক্রি করে কয়দিন চলা যায়, বলেন? এখন প্রত্যেক মাসে আমি ৩০- ৪০ হাজার টাকার বেশি দেনা থাকি।’

আয়ের বিপরীতে ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে দেশে ক্রমেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে কর নীতিমালার সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে। কর নীতিমালা মেনে চলার হার কম হওয়া এবং দুর্বল কর প্রশাসনের কারণে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ সামান্য বেড়ে জিডিপির ৮.০ শতাংশ থেকে আনুমানিক ৮.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতি প্রণয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উন্নত করতে কর নীতি নির্ধারণ এবং কর প্রশাসনকে একে অপরের থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক করার কথা বলেছে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে অধিকতর ডিজিটালাইজেশন, করদাতাদের সমন্বিত ডেটাবেস ও শনাক্তকরণ নম্বর প্রবর্তন এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) বাড়ানো কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ধনীরাই বেশি সুবিধা পাচ্ছে

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিএনপি সরকার দাবি করে আসছে, তারা নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও বাস্তবে সেভাবে বিনিয়োগ বাড়তে দেখা যায়নি। যার ফলে নতুন কর্মসংস্থানও সেভাবে সৃষ্টি হয়নি।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, সমাজের গরিব শ্রেণির মানুষেরা সেগুলোর সুবিধা কম পাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে ৩৮ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিও ধনীদের তুলনায় কম বলে জানা যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজের নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বছরে গড়ে ৭ হাজার ১৪০ টাকার সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পান। এর বিপরীতে, সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা বছরে পাচ্ছেন ১০ হাজার ৪৭২ টাকার সুবিধা।

আবার, বিদ্যুৎখাতে সরকার যে ভর্তুকি দেয়, এর সুবিধা ধনী-গরিব নির্বিশেষ পান। এক্ষেত্রে যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারা ভর্তুকির সুবিধা বেশি পান বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ধনীরাই বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, বাংলাদেশে সমাজের ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ ধনীর জন্য বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির এক-তৃতীয়াংশ খরচ হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এভাবে ঢালাও ভর্তুকি না দিয়ে সরকারের বরং দরিদ্রদের জন্য এমন কর্মসূচি নেওয়া উচিৎ, যাতে তারাই সুফলটা বেশি পেতে পারে।’

তবে বিএনপি সরকার যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে, সেটি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারলে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা বলেন, ‘বিদ্যমান পদ্ধতিতে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হলে বছরে ১৬ লাখের মতো মানুষ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে পারবে। কিন্তু এই কার্ড যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের দিতে পারলে বছরে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারবে।’

সরকার কী বলছে?

সরকার বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকখাতের সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো তারা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে ‘উত্তরাধীকার সূত্রে’ পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘প্রত্যেকটাই কিন্তু বহিঃস্থ কারণ, অথবা উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত।’ 

তার দাবি, সরকার এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের দিক থেকে মূল্যস্ফীতিটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর