বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: তিতুমীর

জ্ঞান অনুসন্ধান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং নাগরিকত্ববোধ তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি এবং ২০২৫ সালের এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান অনুসন্ধান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীরা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়ে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বকে এগিয়ে নেবে, এটাই প্রত্যাশা। সাফল্য মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। তবে সাফল্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজের প্রতি, পরিবারের প্রতি, দেশের প্রতি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা। শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি সমাজের মূল্যবোধ ধরে রাখার দায়িত্বও রয়েছে।

শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। 

তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরও যদি তার জ্ঞানের মান সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ে থাকে, তাহলে সেটি বড় সমস্যা। দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হলে তার জ্ঞানের মানও সেই পর্যায়ের হতে হবে।

বিজ্ঞান, গণিত, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

তিনি বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীরা সমাজে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব। গণিত ছাড়া পদার্থবিদ্যা এবং পদার্থবিদ্যা ছাড়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

আবু সালেহ আকন বলেন, শিক্ষাজীবনে অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও জাতির উন্নয়নের চালিকাশক্তি। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমান এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং, যোগাযোগ ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. আসাদুল্লাহিল গালিব।

এছাড়া ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। পরে ৩১ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

এএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর