বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পরিকল্পিত আবাসন গড়তে দেশব্যাপী মহাপরিকল্পনা হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

পরিকল্পিত আবাসন গড়তে দেশব্যাপী মহাপরিকল্পনা হবে: গণপূর্তমন্ত্রী
‘স্মার্ট আবাসন: টেকসই ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের

সারাদেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ বন্ধ করে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন: টেকসই ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা একটি মহাপরিকল্পনা করব। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত উন্নয়ন কীভাবে করা উচিত, সেটি এই পরিকল্পনায় নির্ধারণ করা হবে। পরিকল্পনা ছাড়া কাজ করলে অনেক কিছুই বোঝা যায় না। তাই সঠিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র জানা জরুরি। সর্বশেষ আদমশুমারি অনেক আগে হয়েছে। বর্তমান জনসংখ্যার বাস্তব চিত্রের ভিত্তিতে আবাসন ও নগর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এ জন্য জনসংখ্যার তথ্যকে পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে।’

ভবন নির্মাণের মান নিশ্চিত করার বিষয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘ভবনের নকশা, কাঠামোগত বিষয়সহ সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণ শেষ হলে সেটি সঠিকভাবে নির্মিত হয়েছে কি না, তারও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যিনি নকশা করেছেন, তাকেও ভবনটি যথাযথভাবে নির্মিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রত্যয়ন দিতে হবে।’

রাজধানীর অপরিকল্পিত নগরায়ণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের অনেক এলাকায় পরিকল্পনা ও অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণ হয়েছে। এ বাস্তবতা পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে। শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি, আমাদের অনেক জায়গায় ভুল হয়েছে। এখন সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করছি। শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, সারা বাংলাদেশ নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’

গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেসব এলাকায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নেই, সেখানে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে ভবন নির্মাণের প্রবণতা বন্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আবাসন শুধু উচ্চবিত্ত বা ধনী মানুষের জন্য নয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।’

বেসরকারি আবাসন খাতের উন্নয়নেও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতের আবাসন প্রকল্পগুলো যাতে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান ঢাকা শহরের বাস্তবতা হলো, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করতে হলে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আপনাদের যেকোনো ভালো পরামর্শ ও ধারণা সরকারকে দিন। আমরা সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব। সবার সহযোগিতা নিয়ে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।’

দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস, বিএসএমএ সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, স্পেসজিরোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন, এবিসি রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবন্তী দত্ত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।

এমআর/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর