ঢাকায় বামপন্থী দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভায় অংশগ্রহণকারীদের গণগ্রেফতার ঘটনাকে বাংলাদেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর কর্তৃপক্ষের ‘চলমান আগ্রাসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটি বলছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির একই ধরনের অধিকার লঙ্ঘনকে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দিতে পারে না।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের প্রায় ২৯০ জন সমর্থককে পুলিশ হেফাজতে নেয়। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন যুবদল দাবি করেছিল, ওই সমাবেশটি মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক। ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২৭ জনকে রিমান্ডে পাঠায় আদালত। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউ উল্লেখ করেছে, জাসদ মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অংশ ছিল। এই জোট ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। এরপর ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে সরকারটির পতন ঘটে, যে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষ নিহত হন।
মানবাধিকার সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তীব্র নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলটি এখন নিজেদের কথিত বিরোধীদের নির্বিচারে আটকের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। বর্তমানে শত শত আওয়ামী লীগ সদস্য কারাগারে রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
পুলিশ বারবার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কথিত সমাবেশে অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটি জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের সভার দিনেই বরিশালে 'নাশকতার পরিকল্পনা'র অভিযোগে ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
এর দুই দিন পর একই অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকায় আরও ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে উভয় ক্ষেত্রেই আটককৃতরা জানিয়েছেন, তারা শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
এইচআরডব্লিউ তাদের বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটকসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল। বিএনপি মানবাধিকার ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে নতুন সরকার বিরোধীদের নির্বিচারে আটক করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত মানবাধিকার সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো বাতিল করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সবার জন্য মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয় উল্লেখ করে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের নিপীড়ন পরিস্থিতিকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, বাংলাদেশের ইতিহাস এমন দৃষ্টান্তে ভরপুর।
আরএনবি/এআরএম




