পদ্মা ব্যাংকের সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী এবং ময়মনসিংহ-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।
দুদকের চার্জশিটে অভিযুক্ত অন্যরা হলেন মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, তৎকালীন দি ফারমার্স ব্যাংকের মিরপুর শাখার সাবেক ম্যানেজার অপারেশন ইরফানুল হক, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, মেসার্স বিলিভ ওয়ান অ্যাসোসিয়েটস সার্ভে অ্যান্ড পরিদর্শন কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান, তৎকালীন দি ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী এবং পদ্মা ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম।
দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ও তাঁর স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের ঋণ আবেদন যথাযথভাবে যাচাই না করেই ঋণ অনুমোদন করা হয়। যথাযথ মর্টগেজ না নেওয়া এবং সামান্য মর্টগেজকে বেশি দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতির অবনতি থাকা সত্ত্বেও ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। এমনকি মর্টগেজ দলিল সম্পাদনের আগেই ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়।
২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি দায়ের করা মামলায় শারমিন গোলন্দাজকে প্রধান আসামি এবং ফাহমী গোলন্দাজকে সহযোগী আসামি করা হয়। তদন্তে শারমিনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ২৪০ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগে ফাহমী গোলন্দাজকে আসামি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ফাহমী গোলন্দাজ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হলেও আজ একটি মামলার চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে।
অপর মামলায় ফাহমী গোলন্দাজের বিরুদ্ধে ২০ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ৪৬০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ৬০ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৬ মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত চলছে।
একেএস/এআর




