সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান: ৪২ জেলায় ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান: ৪২ জেলায় ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ছবি: এআই

সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং ভোজ্যতেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ ৪২ জেলায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের ৫৬টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান এবং পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করা হয়।

ঢাকা মহানগরীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ, গ্যাস ক্রয়ের ক্যাশমেমো দেখাতে না পারা, ক্রেতাকে পাকা ক্যাশমেমো না দেওয়া, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অনিয়ম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মজুদ করা গ্যাস সরকার নির্ধারিত দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে পৃথক অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং রং মেশানো প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়। ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

মাছে রং ব্যবহারের দায়ে সুকুমার নামের এক বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মাছের বাজারে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও রঙিন বাতি ব্যবহার পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিত্যপণ্য ও মসলার বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং নোংরা মেঝেতে গুঁড়া মসলা রাখার দায়ে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

ভোক্তাদের সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মূল্যতালিকা যাচাই এবং পণ্য কেনার সময় রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সম্মুখীন হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর