সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দুদকের আরও এক মামলা, প্রধান আসামি ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

দুদকের আরও এক মামলা, প্রধান আসামি ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রায় ৭০ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সজিব আহমেদ বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ গত ১ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেছেন। 

দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেনট সাব কমিটি (আইডিআরসি)-এর সভার সিদ্ধান্তকে ব্যবহার করে জমি ও ভূমি উন্নয়নসংক্রান্ত কাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত করেছেন। এসব বিলের বিপরীতে বিভিন্ন চেক ও নগদ অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে কোম্পানির বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

মামলার আসামিরা হলেন, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্লাহ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সাবেক কোম্পানি সচিব সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মোহাম্মদ আলমগীর কবির সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট মো. কামাল হোসেন হাওলাদার।  

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৫ জুন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেনট সাব কমিটি (আইডিআরসি)-এর ২৭৬তম সভায় ভূমি ও ভূমি উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রভিশনাল বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। ওই বাজেটের আওতায় জমি-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দুদকের তদন্তে এসব অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজ না করে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুতের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন তারিখে জমি ও ভূমি উন্নয়নের নামে একাধিক ভুয়া ডকুমেন্ট ও বিল তৈরি করে চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়। তদন্তে ১৫টি চেকের মাধ্যমে ৬৯ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের পাওনা অর্থ ব্যাংক ড্রাফট বা প্রাপকের নামে যথাযথভাবে পরিশোধ না করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে চেক ইস্যু এবং নগদ উত্তোলনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

এছাড়া, ফারইস্টের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত চেকসহ বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেমায়েত উল্লাহ, কোম্পানি সচিব সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর কবির এবং অন্য আসামিদের যোগসাজশে এসব অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর